দেশে ইন্স্যুরেন্স নিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় আলোচনা হয়েছে খুবই কম, অথচ ভ্রান্ত ধারণা আর মিথ্যা গল্প ছড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেকের কাছে ইন্স্যুরেন্স মানেই ঝামেলা, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা অনিশ্চয়তার আশঙ্কা। কারও কাছ থেকে শোনা বিমা দাবি আদায় না হওয়ার গল্প, কারও শোনা এজেন্টের অনিয়ম। এই মুখে মুখে ঘোরা গল্পগুলোর কারণেই ধীরে ধীরে ইন্স্যুরেন্সের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়েছে।
অথচ অনিশ্চিত জীবনে পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার অন্যতম কার্যকর একটি উপায় হলো ইন্স্যুরেন্স। এখন বেশির ভাগ ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেই পলিসির শর্ত, সুবিধা ও প্রিমিয়াম সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়, যেখানে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। তাই, ইন্স্যুরেন্স সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো ঝেড়ে ফেলে বাস্তব চিত্রটি জানা জরুরি।
ইন্স্যুরেন্স করা মানেই প্রতারণার শিকার হওয়া – এমন ধারণার পেছনে রয়েছে অতীতের কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা। তবে, বর্তমানের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন দেশের বেশিরভাগ জীবন ও সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে দাবি নিষ্পত্তি করছে। যার ফলে, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার বোনাসসহ তাদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছে। তাই, কয়েকটি নেতিবাচক উদাহরণের মাধ্যমে পুরো শিল্পখাতকে বিচার করা বাস্তবসম্মত নয়।
বিমা দাবি কখনো পরিশোধ হয় না, এটি আরেকটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা। বাস্তবে, সঠিক নিয়মে পলিসি নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হলে দাবি পরিশোধ নিয়ে সমস্যা হয় না। কিছু ক্ষেত্রে দাবি নিস্পত্তিতে কিছুটা বিলম্ব হয় কাগজপত্রের ঘাটতি, নমিনির তথ্য ভুল থাকা বা প্রিমিয়াম বকেয়া থাকার কারণে। তবে, ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন ঘেটে দেখা যায়, প্রতি বছর তারা বিপুল পরিমাণ দাবি সফলভাবে নিস্পত্তি করেছে। এর অন্যতম বড় কারণ হলো, বর্তমানে গ্রাহকেরা অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই তাদের বিমা দাবি জমা দিতে পারেন, দাবির বর্তমান অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেন এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত প্রিমিয়াম নিষ্পত্তির সুবিধা পান। ফলে, প্রতিটি লেনদেনের একটি ডিজিটাল প্রমাণ থেকে যায় এবং গ্রাহক প্রিমিয়াম জমা দেয়া থেকে শুরু করে বিমা দাবি নিষ্পত্তিকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সহজেই স্বচ্ছতার সাথে লেনদেন করতে পারেন।
এজেন্টদের অনিয়ম নিয়েও উদ্বেগ আছে। অতীতে কিছু ঘটনায় এই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে, এখন ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল আর্থিক সেবা ও অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার কারণে গ্রাহক নিজেই প্রিমিয়ামের অবস্থা যাচাই করতে পারেন। প্রিমিয়াম পরিশোধের পর এসএমএসের মাধ্যমে ডিজিটাল নিশ্চিতকরণ বার্তা আসে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্টদের কার্যক্রমও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
হেলথ ইন্স্যুরেন্স নিয়েও দীর্ঘদিনের ভয় রয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেমের উন্নতি এবং হাসপাতালের সাথে সরাসরি চুক্তির ফলে এখন অনেক বিমা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান দ্রুত স্বাস্থ্যবিমার দাবি নিষ্পত্তি করছে। ক্যাশলেস চিকিৎসা ও জরুরি অবস্থায় স্বল্প সময়ে দাবি নিষ্পত্তির সুবিধা বাস্তব রূপ পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড দেশে ক্যাশলেস ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের সব প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও দাবি নিষ্পত্তি শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করছে, যেখানে প্রতিটি লেনদেনের স্পষ্ট ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। এতে চিকিৎসা সংকটে ইন্স্যুরেন্স তাৎক্ষণিক সহায়তার জায়গা তৈরি করছে।
অনেকের ধারণা, ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্স্যুরেন্স থেকে তেমন কোনো লাভ পাওয়া যায় না এবং এতে মূলত উপকৃত হয় প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু বাস্তবে ইন্স্যুরেন্স শুধু প্রতিষ্ঠানকে নয়, ব্যক্তি ও পরিবারকেও দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আর্থিক সুরক্ষা দেয়, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করে।
পরিশেষে, ইন্স্যুরেন্স সম্পর্কে ভুল ধারণা যেমন একদিনে তৈরি হয়নি, তেমনি একদিনে দূরও হবে না। তবে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বেছে নিলে, পলিসির শর্ত ভালোভাবে জানা থাকলে এবং নিয়ম মেনে প্রিমিয়াম পরিশোধ করলে ইন্স্যুরেন্স গ্রহণ করা হতে পারা একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকর আর্থিক সিদ্ধান্ত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
