নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং এনএসইউ ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়। এছাড়া ইউনিভার্সিটির অডি-৮০১-এ এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান জনাব আজিজ আল কায়সার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান জনাব বেনজীর আহমেদ; মুখ্য আলোচক এনএসইউ’র ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এনএসইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। এসময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ’র উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এনএসইউ’র উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ।
মুখ্য আলোচক ড. সলিমুল্লাহ খান বাংলা ভাষার ইতিহাস ও উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভাষা জ্ঞান অর্জনের উপকরণ। তবে এটি শুধুমাত্র জ্ঞান ও যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি পরিচয়েরও একটি মাধ্যম। বাংলার পাশাপাশি অন্য ভাষা চর্চাকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে, তবে তা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে কম গুরুত্ব দিয়ে নয়।”
বিশেষ অতিথি জনাব বেনজীর আহমেদ বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। আমাদের ভাষা আন্দোলনের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, নতুন প্রজন্ম বাংলা ভাষার মর্যাদা ও চেতনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
প্রধান অতিথি জনাব আজিজ আল কায়সার বলেন, “ভাষা চর্চার বিষয়। বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের নিয়মিত ভাষা চর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজ বাড়াতে হবে। মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।”
এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “আমাদের মাতৃভাষাকে কোনোভাবেই কম গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই। ভাষা আমাদের একত্রিত করে, বিভক্ত করে না। বিশ্বের অনেক জাতি নিজেদের ভাষায় জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা করে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। জাতি হিসেবে আরও এগিয়ে যেতে আমাদের বাংলা ভাষায় শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীল কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এনএসইউ’র কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান।