রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহর বলাৎকার এবং ‘হত্যা’ ইস্যুতে সরব হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।
সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশে কোনো ঘটনা যখন বেশি ভাইরাল হয়, দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়; তখন বিচার পাওয়ার একটা পসিবিলিটি (সম্ভাবনা) তৈরি হয়, প্রধানমন্ত্রী গিয়ে দেখা করে, আশ্বাস দেয়। এর বাহিরে কোনো ঘটনায় সেই সম্ভাবনাটুকুও তৈরি হয় না, বিচার পাওয়া তো সেক্ষেত্রে বিলাসী আবদার! আবার প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিলেও শঙ্কা থেকে যায়, বহুল আলোচিত আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় দ্রুত হলেও; এখন পর্যন্ত কার্যকর করা যায়নি। রামিসারটা কী হয়,আল্লাহ মালুম!’
তিনি আরও লেখেন, ‘আরেকটা বিষয়, রামিসার ঘটনার দিন রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় আব্দুল্লাহ নামে ১০ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয় মাদ্রাসার ওয়াশরুম থেকে। লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচার বা বলাৎকারের আলামত পান পুলিশ কর্মকর্তারা। এই ঘটনায় ওই মাদ্রাসার এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, এই সিনিয়র শিক্ষার্থী এর আগেও মাদ্রাসার চারজন শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেছেন!’
আব্দুল্লাহ কাদের লেখেন, ‘আমরা জানি না, বর্তমান সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সেই আব্দুল্লাহর বলাৎকার এবং হ'ত্যার বিচারে তৎপর হবেন কি না, এসব বলাৎকারের বিরুদ্ধে কঠোর হবেন কি না, মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চাগুলাকে এই আযাব থেকে পরিত্রাণ দিতে সচেষ্ট হবেন কি না! এমন ঘটনা ঘটতে থাকলে মাদ্রাসা কিংবা ধর্মীয় শিক্ষার উপর বড় ধরনের হুমকি আসবে, ইতিমধ্যে আমরা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিও। আর না। ‘
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকার একটি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে গত রাতে বনশ্রীর সি ব্লকের তিন নম্বর রোডের আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুমে গামছা পেছানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের কোথাও কোনও জখমের চিহ্ন না থাকলেও পায়ুপথে অস্বাভাবিক চিহ্ন দেখা গেছে। ‘