রাশিয়ায় চলমান তিন দিনের সরকারি সফরে মস্কোতে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পারমাণবিক জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২৬ সালের মে মাসে প্রথম ইউনিটে সফলভাবে জ্বালানি লোডিংয়ের পর এবার জাতীয় গ্রিডে সংযোগ ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর কাউন্টডাউন চলছে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বিপ্লব আনবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার ১০০% আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে নতুন প্রযুক্তির আলোচনায়! প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে রোসাটম প্রধানের সাম্প্রতিক বৈঠকের সূত্র ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদাতে 'ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর'-এর সম্ভাবনার কথা তোলেন, তখন রোসাটম মহাপরিচালক বাংলাদেশে অত্যাধুনিক ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সরবরাহের এক বিশাল সম্ভাবনার কথা জানান।
এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের পেশাজীবীদের রিঅ্যাক্টর প্রকৌশল ও পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ করে তুলতে রাশিয়ার বিশেষ প্রশিক্ষণের আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যাতে দেশের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের পাশাপাশি তারা বিশ্বমঞ্চেও অবদান রাখতে পারেন। বাংলাদেশের এই দূরদর্শী প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক সাড়া দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রোসাটম।