গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধিতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২শ’ মেগাওয়াট।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার বেলা ১১ টায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, রোববার পর্যন্ত লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল এর নীচে থাকলেও সোমবার সকাল হতে লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল অতিক্রম করেছে। সেই সঙ্গে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২শ’ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।
তিনি জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল ছিল ১০০.৬০ ফুট মিন সি লেভেল। যেখানে রোববার রাত পর্যন্ত পানির লেভেল ছিল ৯৯.১৫ ফুট মিন সি লেভেল।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২শ’ ৬ মেগাওয়াট। যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন।
এদিকে, কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ১ নং, ৩ নং, ৪ নং এবং ৫ নং ইউনিট হতে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে ১শ’ ৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নং ইউনিট হতে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ৫টি ইউনিট এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই লেকে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে। পানি সংকটের কারণে দীর্ঘ ৩ মাস ধরে সচল থাকার পরও কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট এক সাথে চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই লেকের পানি বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন আরও বাড়বে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে।
সূত্র আরও জানায়, এ সময় রুলকার্ভ অনুযায়ী লেকে পানি থাকার কথা ৯০ দশমিক ৩১ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল)। বর্তমানে পানি আছে ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট এমএসএল। লেকে সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ প্রকৃতির উপর নির্ভর। কাপ্তাই লেকে পানি বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট এক সঙ্গে চালু থাকলে ২৩০ থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে।