× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রুমায় সূর্যমুখী চাষে কৃষকের হাসি

উবাসিং মারমা, রুমা (বান্দরবান)

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:৪২ পিএম

বান্দরবান রুমা উপজেলা দ্বিতীয় বারের মতো সূর্যমুখী চাষ করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়ে খুশি চাষিরা। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী চাষ করেছেন ১০ জন কৃষক।

রুমার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য উপযোগী। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সূর্যমুখীর বীজে ৪০-৪৫% লিনোলিক এসিড রয়েছে, তাছাড়া এ তেলে ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিড নেই। হৃদরোগীদের জন্য সূর্যমুখীর তেল খুবই উপকারী।

সূর্যমুখী চাষপদ্ধতি 

জমির প্রকারভেদে জমিতে ৪-৫ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে ও আগাছামুক্ত করে বীজ বপন করতে হবে। বীজ লাইনে বপন করা উত্তম। লাইন থেকে লাইন দূরত্ব ২০ ইঞ্চি এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১০ ইঞ্চি রাখতে হয়।

সূর্যমুখী  বীজের পরিমাণ 

জাত ভেদে বীজের পরিমান শতক প্রতি ৩০-৪০ গ্রাম।

রুমা উপজেলা কৃষি বিভাগ সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষের উদ্বুদ্ধ করতে উদ্যমী কৃষকের হাত ধরে পরীক্ষামূলকভাবে বান্দরবান রুমা উপজেলার  ৪টি ইউনিয়নের ১০বিগা  জমিতে প্রথমবারের মতো উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার ও বীজ  এবং ভুট্টা, চিনা বাদাম, ও সরিষা। প্রণোদনার মাধ্যমে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুলের।

বর্তমানে সূর্যমুখী ফুলের সমারোহে মেতে উঠেছে উপজেলার মাঠ এবং নদীর চরগুলো ।আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তেল জাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর চাষ অনেক সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা এতে উৎসাহিত হয়ে উঠবেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

রুমা  ইউনিয়নের থানা পাড়া, পলি পাড়া, বেথেল পাড়া সহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়  সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুলের সমারোহে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি এক দৃষ্টিনন্দন বাগান।

এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অবলোকনে শুধু প্রকৃতিপ্রেমীই নয় বরং যে কারো হৃদয় কাড়বে। বিকাল থেকে সন্ধ্যার পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সমগম দেখা যায়। তবে সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখীর চাষাবাদ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে উপজেলার  ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১০জন কৃষক ১০ বিঘা জমিতে প্রণোদনার প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলক ভাবে কৃষকরা  কাবেরী চম্পা  জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা শুরু করেছেন।

এতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ১০জন কৃষক সুবিধাভোগী হিসেবে অংশ নিয়েছেন। ফুলের সৌন্দর্য দেখতে খামারে আসছেন দর্শনার্থীরা। অনেকে এটি চাষ করার পরামর্শও নিচ্ছেন। আগে  তামাক চাষ  ছিল। সেটি ব্যয় বহুল  হওয়ার কারণে এখন সূর্যমুখী চাষের আগ্রহী বাড়ছে চাষীদের। 

তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি মন বীজ থেকে কমপক্ষে আধা ১৫-১৬ লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ মণ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ লিটার থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ৩৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।

এছাড়া সূর্যমুখী ফুলের তেল অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। তাই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য এই তেল অন্যান্য তেলের চেয়ে অনেক উপকারী ও স্বাস্থ্যসম্মত।

বেথেল পাড়ার কৃষক লালঠুয়াক বম বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এই প্রথম ২৫ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। আমার সূর্যমুখী ফুল দেখার জন্য  দূরদূরান্ত লোকজন ছুটে আসছে। বিকেল বেলায় অনেকে লোকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেখতে আসেন এ সূর্যমুখী ফুলের জমি, জমির পাশে ছবি তুলেন সময় কাটান অনেকেই। তা দেখে  আমার খুবই আনন্দ লাগে! শুনছি এটি খুবই লাভজনক একটি ফসল।তার সাথে  রুমা কৃষি অফিস থেকে ভুট্টা, সরিষা বীজ , এমওপি, ডিএপি সার দেন। 

ইতোমধ্যেই প্রতিটি গাছেই ফুল ধরেছে। আশা করি সূর্যমুখী চাষে সফলতা আসবে। লাভবান হতে পারব। কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে তামাক চাষ  পরিবর্তে আগামী বছর আরও জমি বাড়িয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাকে দেখে এলাকার অনেক কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কাজী রাকিব জোবায়ের বলেন, সূর্যমুখী এক দিকে মনোমুগ্ধকর ফুল অন্যদিকে লাভজনক ফসল।চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর সহযোগিতায়  কৃষকদের মাঝে বিনামূল্য সূর্যমুখী বীজ ও সার প্রদান করা হয়। সারা বছর চাষ করা গেলেও অগ্রহায়ন মাসে (মধ্য  থেকে চাষ করলে এর ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাত্র ১১০ দিনে উৎপাদনক্ষম এ ফসলে  সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দুবার সেচ দিতে হয়।  প্রতি বিঘা জমিতে ৩-৪  হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা(৩৩ শতক হিসেবে) জমির উৎপাদিত বীজ থেকে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা চার্লি প্রু মার্মা বলেন, এ উপজেলায় দ্বিতীয় বারের মতো সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। আগামীতে সূর্যমুখীর চাষ করবে কৃষকরা। সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে তেল উৎপন্ন হয় তা স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন। অলিভ ওয়েলের পরেই সূর্যমুখী তেলের অবস্থান। সয়াবিন ও সরিষা ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণ করবে সূর্যমুখী তেল। বেশি লাভজনক ফসল সূর্যমুখী।

তিনি বলেন, আশা করছি ভালো ফলন হবে। আগামীতে এই উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ ব্যাপক হারে আরও সম্প্রসারিত হবে। দ্বিতীয় বার কৃষকেরা সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হবেন বলে আমি আশাবাদী।

কৃষকদের এসব তেল প্রক্রিয়াজাত এবং বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান।

Sangbad Sarabela

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । [email protected], বিজ্ঞাপন: 01894-944204

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2024 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.