রোজা রাখার কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। তাই ক্ষুধা বেশি লাগাটা স্বাভাবিক। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না—দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকার পর আপনি কোন খাবার খেতে পারবেন আর কোন খাবার খেতে পারবেন না! এ ব্যাপারে খুব সতর্ক হতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু খাবার রয়েছে যা খালি পেটে খেলে শরীরে তাৎক্ষণিক অ্যাসিডিটি, পেট ব্যথা কিংবা বুকে জ্বালাপোড়ার কারণ হয়ে ওঠে।
পুষ্টিবিদদের তথ্যে জেনে নিই, কোন খাবারগুলো ইফতারে এড়িয়ে চলা প্রয়োজন
সাইট্রাস ফল ও এর তৈরি ঠান্ডা শরবত
ইফতারে ফল খাওয়ার অভ্যাস আছে অনেকেরই। কিন্তু খালি পেটে সাইট্রাস জাতীয় ফল খেলে পেট ভার হয়ে থাকে, পেটে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ায়। আর এসব ফলে থাকা ফ্রুক্টোজ হজম-প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দেয়। তাই ইফতারে খাদ্যতালিকায় কমলালেবু, মুসুম্বি জাতীয় ফল রাখবেন না। এসব ফলের তৈরি ঠান্ডা জুস বা শরবতও বাদ দিন। কারণ ঠান্ডা পানি সর্দি-কাশির সমস্যা তৈরি করে এবং হজমের গতি মন্থর করে।
তৈলাক্ত খাবার
ইফতারে তেলের তৈরি নানা পদের ভাজাপোড়া দিয়ে ছোলা, মুড়ি মাখা খাওয়ার চল রয়েছে এদেশে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর এ তৈলাক্ত খাবার পেটে গ্যাসসহ নানা গোলযোগের কারণ হয়ে ওঠে। তাই চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এ খাবার চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাসে পেটে মেদের পরিমাণও বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, খালি পেটে এমন খাবার বেছে নিলে ভুগতে হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি অন্ত্রের সমস্যাতেও। পড়তে পারেন আলসার ও ক্যানসারের মতো জটিল রোগে।
চা-কফি
ইফতারে ভারী খাবারের পর চা-কফি খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে প্রতিটি ঘরে ঘরে। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, এ অভ্যাস শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকার পর ভারী খাবার খাওয়ার পর আবার চা-কফি খেলে শরীরে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যা রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে। অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে।
তাই ইফতারে প্রাধান্য দিতে পারেন সুষম খাবার, সবজি, ইসবগুলের শরবত, খেজুর, দই এবং সহজে হজম হয় এমন খাবার। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।