প্রতীকী ছবি/সংবাদ সারাবেলা
ইসলামের শিক্ষা কেবল বিধানভিত্তিক নয়, এটি ভালোবাসা, সম্পর্ক ও আনুগত্যের এক জীবন্ত দর্শন। বান্দার সঙ্গে আল্লাহ তাআলার সম্পর্ক ইবাদতের মাধ্যমে সুদৃঢ় হয়; আর উম্মতের সঙ্গে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্পর্ক দৃঢ় হয় দরুদ শরীফের মাধ্যমে। দরুদ কোনো উচ্চারিত শব্দমাত্র নয়, এটি মুমিন হৃদয়ের স্পন্দন, ভালোবাসার নীরব অশ্রু, ঈমানের দীপ্ত স্বাক্ষর ও বরকতের অফুরন্ত ঝরনা। প্রতিটি দরুদ এক নীরব প্রার্থনা, এক অন্তর্নিহিত প্রেমের প্রকাশ, যা বান্দার হৃদয়কে আল্লাহ ও নবীর প্রতি নিবেদিত করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম প্রেরণ করো।”
(সূরা আল-আহযাব: ৫৬)
কী অপূর্ব সম্মান! এই আয়াত যেন আসমান থেকে নেমে আসা এক আলোকবার্তা, যা আমাদের মনে স্মরণ করিয়ে দেয় যে দরুদ শুধুই এক আমল নয়, বরং এক অনন্য সম্মান ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতীক। এটি আমাদের সামনে এক বিস্ময়কর সত্য উন্মোচন করে দরুদ এমন এক ইবাদত, যেখানে আল্লাহ নিজেই অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।
অর্থাৎ, মুমিন যখন দরুদ পাঠ করে, তখন সে কেবল একটি আমল সম্পাদন করে না বরং সে এক ঐশী প্রবাহে শরিক হয়ে যায়, যে প্রবাহ আসমান থেকে নেমে আসে রহমতের সুধাধারায়। তার কণ্ঠের ক্ষুদ্র উচ্চারণ মিলিত হয় ফেরেশতাদের দরুদের সুবিশাল তরঙ্গে এবং সেই মুহূর্তে এক আধ্যাত্মিক সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়।
দরুদ শরীফের কেন্দ্রবিন্দু হলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের প্রাণ যা ব্যতীত ঈমান পূর্ণতা পায় না। দরুদ পাঠ সেই ভালোবাসাকে শব্দে রূপ দেয়, হৃদয়ের গভীর শ্রদ্ধাকে উচ্চারণে পরিণত করে। এটি কৃতজ্ঞতার ধ্বনি কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমেই আমরা পেয়েছি হিদায়াতের আলো, কুরআনের দিশা এবং জীবনযাপনের পরিপূর্ণ আদর্শ।
দরুদের আধ্যাত্মিক প্রভাব অপার ও গভীর। এটি কেবল সম্মানজ্ঞাপন নয়, বরং রহমত লাভের সোপান। মুমিনের জীবনে দুশ্চিন্তা আসবেই, ক্লান্তি আসবেই, হৃদয়ে কখনো নির্জনতার ছায়া নামবেই। কিন্তু যে হৃদয় দরুদে অভ্যস্ত, সে হৃদয় দ্রুত আলো খুঁজে পায়। দরুদ অন্তরকে নরম করে, অস্থিরতাকে প্রশমিত করে, চোখে আনে প্রশান্তির জ্যোতি।
দরুদের স্নিগ্ধ ধ্বনি মুমিনের রুহে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। এটি এমন এক আমল যা জিহ্বায় সহজ, কিন্তু প্রভাবে গভীর। তাসাউফের দৃষ্টিতে দরুদ হলো আত্মার আয়না মুছে ফেলার মতো। যখন বান্দা দরুদ পাঠ করে, তখন সে নিজের অহংকার গলিয়ে ফেলে নবীর ভালোবাসায়। আত্মার কঠোরতা নরম হয়, অন্তর বিনম্র হয়, আমলে ইখলাস জন্ম নেয়। দরুদ মানুষকে সুন্নাহর পথে টেনে আনে শুধু কথায় নয়, চরিত্রেও।
ভাবুন পৃথিবীর এক প্রান্তে কেউ ফিসফিস করে দরুদ পড়ছে, অন্য প্রান্তে কেউ অশ্রুসিক্ত চোখে সালাম পেশ করছে কিন্তু শব্দ একই, ভালোবাসা একই। এ যেন এক আধ্যাত্মিক সেতুবন্ধন, যা ভাষা, বর্ণ, জাতি ও ভূগোল অতিক্রম করে সব মুমিনকে এক হৃদয়ে বেঁধে রাখে। প্রতিটি দরুদ পাঠ মুমিনের অন্তরে নবীর ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি জাগ্রত করে।
অতএব, দরুদ শরীফ কেবল একটি আমল নয়, এটি প্রেমের দীপশিখা, রহমতের দরজা, বরকতের ভাণ্ডার। যে অন্তর নিয়মিত দরুদে ভিজে, সেখানে অহংকার ও কঠোরতা বাসা বাঁধতে পারে না। সেখানে জন্ম নেয় নম্রতা, চরিত্রে ফুটে উঠে নবী প্রেমের সৌন্দর্য এবং জীবনে নেমে আসে নবীর সুন্নাহর প্রতি আকর্ষণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির শান্ত ছায়া। ব্যক্তি জীবন থেকে সমাজজীবন সর্বত্র দরুদ এক নীরব আলোকরেখা হয়ে মুমিনের পথকে সুস্পষ্ট, প্রশান্ত এবং ঈমানের আলোয় ভরিয়ে দেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
