ছবি: ফাইল।
ঈদ এলে মানুষের হৃদয়ে জেগে ওঠে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এক উজ্জ্বল সংস্কৃতি। আনন্দের এই উৎসব কেবল নতুন পোশাক, মিষ্টান্ন কিংবা পারিবারিক মিলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিক শুভকামনা প্রকাশের মধ্যেও এর সৌন্দর্য নিহিত।আনন্দের এই দিনে মানুষ একে অপরকে স্মরণ করে, ভালোবাসা ও মঙ্গলকামনা জানায়। সময়ের প্রবাহে সেই শুভেচ্ছা জানানোর রীতিতেও এসেছে পরিবর্তন একসময় কাগজের রঙিন ঈদ কার্ড ছিল এই আন্তরিকতার প্রধান বাহন, আর আজ তার জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠা ডিজিটাল বার্তা। এক সময় ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই বইয়ের দোকান বা স্টেশনারির সামনে কিংবা রাস্তার মোড়ে বসতো দোকান যেখানে থাকত নানা নকশা ও রঙের ঈদ কার্ড।
ছোট্ট সেই কার্ডগুলোর ভাঁজে লুকিয়ে থাকত ভালোবাসা, বন্ধুত্ব আর আন্তরিকতার বার্তা। কেউ বন্ধুর জন্য, কেউ দূরে থাকা আত্মীয়ের জন্য, আবার কেউ প্রিয় মানুষটির উদ্দেশে যত্ন করে বেছে নিত একটি কার্ড। অনেকেই কার্ডের ভেতরে নিজের হাতে লিখে দিত কয়েকটি লাইন কখনো কবিতার পঙ্ক্তি, কখনো স্নেহভরা শুভেচ্ছা। তারপর সেটি খামে ভরে ডাকযোগে পাঠানো হতো নির্দিষ্ট ঠিকানায়। প্রাপকের হাতে পৌঁছালে সেই ছোট্ট কার্ডটিই হয়ে উঠত আনন্দের এক বিশেষ উপলক্ষ।
ঈদ কার্ড কেবল একটি কাগজের টুকরো ছিল না; এটি ছিল সম্পর্কের স্মৃতি বহনকারী এক ছোট্ট নিদর্শন। অনেকেই এসব কার্ড যত্ন করে রেখে দিত ডায়েরির পাতায়, বইয়ের ভাঁজে কিংবা আলমারির গোপন কোনো জায়গায়। বছর পেরিয়ে গেলেও সেসব কার্ড খুলে দেখলে মনে পড়ত প্রিয় মানুষগুলোর কথা, ফিরে আসত পুরোনো দিনের আবেগঘন মুহূর্ত।
কালের আবর্তে প্রযুক্তির বিস্তার মানুষের যোগাযোগের ধরনে বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন আর ডাকঘরের অপেক্ষা করতে হয় না, বাজার থেকে কার্ড কিনে খামে ভরারও প্রয়োজন পড়ে না। মোবাইল ফোনের একটি স্পর্শেই মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় ঈদের শুভেচ্ছা—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে। ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন কিংবা সৃজনশীল গ্রাফিক্সের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানোর নতুন নতুন রূপ তৈরি হয়েছে।
ঈদ কার্ডের পুরোনো সংস্কৃতি বিলুপ্তি পথে, এখন কিছু প্রতিষ্ঠান ও অফিসে স্বল্প পরিসরে ঈদ কার্ড বিনিময়ের ঐতিহ্য টিকে আছে। আবার বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশের কাছে এটি তেমন পরিচিত না হলেও গুটিকয়েক তরুণ-তরুণী নস্টালজিয়ার টানে কিংবা সৃজনশীল আগ্রহে ঈদ কার্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তবে সে আগ্রহ এখনও খুব সীমিত এবং অপ্রতুল।
প্রযুক্তির এই দ্রুতগতির যুগে ডিজিটাল শুভেচ্ছা যোগাযোগকে সহজ ও তাৎক্ষণিক করে তুলেছে। কিন্তু হাতে লেখা একটি কার্ডের যে আবেগ, অপেক্ষা আর স্পর্শের উষ্ণতা তার স্বাদ যেন সেখানে পুরোপুরি পাওয়া যায় না। একটি কার্ড হাতে নিয়ে পড়ার অনুভূতিতে যেমন সময়ের যত্ন আর আন্তরিকতার ছোঁয়া থাকে, ডিজিটাল বার্তায় তা অনেক সময় অনুপস্থিত থেকে যায়।
সময়ের স্রোতে তাই ঈদ কার্ডের সেই বিশেষ আনন্দ আজ অনেকটাই স্মৃতির অংশ হয়ে গেছে। তবুও কোনো পুরোনো বইয়ের ভাঁজে বা ডায়েরির পাতায় হঠাৎ যদি পাওয়া যায় একখানি পুরোনো ঈদ কার্ড, তখনই যেন ফিরে আসে সেই সময়ের আবেশ যখন একটি ছোট্ট কাগজের কার্ডই মানুষের হৃদয়ে ঈদের আনন্দকে আরও গভীর করে তুলত।শেষ পর্যন্ত ঈদের শুভেচ্ছা কাগজের কার্ডে লেখা হোক কিংবা মোবাইলের পর্দায় ভেসে উঠুক তার প্রকৃত ঠিকানা মানুষের হৃদয়েই।
সৈয়দ আবুল হাসনাত জিসান
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
