নামাজ মানুষকে আলোর পথ দেখায়। কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। ইসলামে প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক নর-নারীর ওপর এই নামাজ ফরজ করা হয়েছে।
ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা আমার স্মরণোদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম করো’ (সুরা ত্বহা : ১৪)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তুমি সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম কর এবং ফজরের নামাজ (কায়েম কর)। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজে সমাবেশ ঘটে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : ৭৮)
রাব্বুল আলামিন আরও বলছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে’ (সুরা আনকাবুত : ৪৫)
নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে এর ভেতরে-বাইরে অনেকগুলো ফরজ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পবিত্র পোশাক পরিধান করা। অপবিত্র কোনো পোশাক পরে নামাজ আদায় করলে তা হবে না। তাই স্বাভাবিক সময়ে নামাজ আদায়ের জন্য শালীন ও পুরো শরীর ঢেকে রাখা যায় এমন পবিত্র কাপড় পরিধান করা জরুরি। শালীন পোশাকের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ নির্দেশনা নেই। জার্সি এবং এজাতীয় শালীন পোশাকেও নামাজ আদায় করা যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে জার্সিতে যেন কোনো প্রাণীর ছবি না থাকে। প্রাণীর ছবি থাকলে সেই জার্সি পরে নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এ বিষয়ে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, ‘জার্সিতে যদি প্রাণীর ছবি বা মানুষের ছবি স্পষ্টভাবে থাকে, তাহলে নামাজ আদায় হলেও তা মাকরুহ হবে। আর ছবিটি যদি এতটাই অস্পষ্ট হয় যে সহজে বোঝা না যায়, তাহলে মাকরুহ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তবুও জার্সি পরে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ জার্সি মূলত খেলাধুলার পোশাক। এটি তৈরিই হয় মাঠে খেলার সময় পরার জন্য।
অথচ নামাজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য অপরিসীম। একটি খেলার পোশাক পরে ইসলামের এত মহান ও সম্মানিত একটি বিধান পালন করা নামাজের আদব ও শিষ্টাচার পরিপন্থি।’
তিনি জানান, ইসলামে প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম। তবে প্রাণহীন বস্তু যেমন: বৃক্ষ, পাহাড়, ঝরনা ইত্যাদির ছবি বৈধ। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯, মেরকাতুল মাফাতিহ ৪৪৮৯)
মুফতি ইয়াহইয়া আরও বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা শুধু নামাজের ক্ষেত্রে হারাম! ফলে তারা নামাজের সময় এ ব্যাপারে খেয়াল রাখলেও অন্য সময় উদাসীন থাকে। অথচ এটা তাদের ভ্রান্ত ধারণা। কারণ, কোনো ছবিযুক্ত কাপড় দিয়ে নামাজ আদায় করা হোক বা না হোক, উভয় অবস্থায় তা মাকরুহে তাহরিমি বা হারাম। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯)