ছবি: সংগৃহীত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশ করতে অনেকেই তাকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করছেন। কেউ মজা করে, কেউ প্রতিপক্ষকে খোঁচা দিতে, আবার কেউ ভক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন।
কিন্তু একজন মুসলিমের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে যখন সেই ব্যক্তি জন্মদাতা পিতা নন এবং একজন অমুসলিম হন সেক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।
ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন যে, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে।
’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ২৩)
কেননা একজন পিতা শুধু একজন অভিভাবক নন; তিনি সন্তানের পরিচয়, বংশ এবং পারিবারিক মর্যাদার অন্যতম ভিত্তি। তাই নিজ পিতার পরিচয় পরিবর্তন বা অন্যকে পিতা বলে দাবি করা সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদেরকে তাদের পিতার নামেই ডাকো। এটিই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সঙ্গত।
’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫)
এই আয়াত প্রমাণ করে, একজন মানুষের প্রকৃত পিতার পরিচয় সংরক্ষণ করা ইসলামের নির্দেশ। তাছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জেনে-শুনে নিজ পিতা ছাড়া অন্য কাউকে নিজের পিতা বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৭৬৬)
আরেক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে তার পিতা ব্যতীত অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমগ্র মানুষের লানত।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৭০)
এ হাদিসগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো বংশপরিচয় বিকৃত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
মজা করে বা আবেগে কাউকে 'বাবা' বলা যাবে কি?
যদি কেউ সত্যিকার অর্থে তাকে নিজের জন্মদাতা পিতা মনে না করে, তবে এটি বংশ পরিবর্তনের শামিল নয়।
তবে এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। ইসলাম ভাষার শালীনতা ও শব্দচয়নের প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে। একজন মুসলিমের মুখ থেকে এমন শব্দ বের হওয়া উচিত নয়, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, অতিরঞ্জিত ভক্তি প্রকাশ করে অথবা পিতা শব্দের মর্যাদাকে হালকা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার নিকট তৎপর প্রহরী (ফেরেশতা) উপস্থিত থাকে।’ (সুরা : ক্বাফ, আয়াত : ১৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা এমন একটি কথা বলে, যার পরিণতি সে গুরুত্ব দেয় না; অথচ সে কারণে সে জাহান্নামে অনেক দূরে নিক্ষিপ্ত হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৭৮)
অতএব, ‘বাবা’ শব্দটি ঠাট্টা, ট্রল বা অন্ধ ভক্তির ভাষা হিসেবে ব্যবহার করাও একজন মুসলিমের মর্যাদাপূর্ণ চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ফুটবল কিংবা অন্য কোনো খেলাকে কেন্দ্র করে আবেগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আবেগ যেন ইসলামের সীমারেখা অতিক্রম না করে। জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্য কাউকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করা—বিশেষ করে একজন বিধর্মী খেলোয়াড়কে—ইসলামী আদব ও শালীনতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। যদিও তা বংশ পরিবর্তনের দাবি না-ও হতে পারে, তবুও এ ধরনের শব্দচয়ন পরিহার করাই তাকওয়া, ভদ্রতা ও ঈমানি ব্যক্তিত্বের দাবি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কথাবার্তা, আচরণ ও ভালোবাসার প্রকাশ—সবকিছুতে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
