ছবি: সংগৃহীত।
আজকের পৃথিবী রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ও স্মার্ট প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। মানুষের নির্দেশে যন্ত্র নিজে নিজে কাজ করছে, গাড়ির ইঞ্জিন ঘূর্ণনশক্তিকে গতিতে রূপান্তর করছে, পানি তোলার পাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলছে এসবকে আমরা আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময় হিসেবে দেখি। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এসব ধারণার বহু মৌলিক নীতি আজ থেকে প্রায় আট শতাব্দী আগেই একজন মুসলিম প্রকৌশলী বাস্তবে প্রয়োগ করেছিলেন।
তিনি ছিলেন বদিউজ্জামান আবুল ইজ্জ ইসমাইল ইবনুর রজ্জাজ আল-জাজারি সংক্ষেপে ইবনুল-জাজারি। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বসবাসকারী এই মুসলিম প্রকৌশলী এমন সব স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, জলঘড়ি, পাম্প, গিয়ার ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা নির্মাণ করেছিলেন, যেগুলো আজকের রোবোটিক্স ও অটোমেশনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি শুধু যন্ত্রের ধারণা দেননি; বরং যন্ত্র কিভাবে তৈরি করতে হবে, কোন অংশ কোথায় বসবে, কিভাবে পানি প্রবাহিত হবে এবং কিভাবে একটি যান্ত্রিক অংশ অন্য অংশকে চালিত করবে এসবও বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এ কারণেই ইবনে আল-জাজারির নাম বিশ্ব প্রকৌশলের ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদার দাবিদার।
আজকের ভাষায় এটিকে এক ধরনের প্রাচীন প্রকৌশল ম্যানুয়াল বলা যায়। একজন দক্ষ কারিগর বইটির নির্দেশনা অনুসরণ করে একটি যন্ত্র পুনর্র্নিমাণ করতে পারতেন। তিনি শুধু লিখে যাননি; চিত্র এঁকেছেন, পরিমাপ দিয়েছেন, যন্ত্রের বিভিন্ন অংশের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছেন এবং বাস্তবে কাজ করে এমন নকশা তৈরি করেছেন। এ কারণেই তঁার গ্রন্থ মধ্যযুগীয় প্রকৌশল ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল। বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ইতিহাসবিদ ডোনাল্ড হিল ইবনুল জাজারির কাজের অসাধারণ গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। ইতিহাসবিদ জর্জ সার্টনও তঁার গ্রন্থকে মুসলিম বিশ্বের বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত অর্জনের অন্যতম শিখর হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
তিনি এমন এক সভ্যতার জ্ঞানচর্চার উত্তরাধিকারী ছিলেন, যেখানে গ্রিক, পারস্য, ভারতীয় ও মুসলিম পণ্ডিতদের জ্ঞান পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন জ্ঞানের জন্ম দিয়েছিল। তঁার বিশেষত্ব ছিল তিনি তত্ত্বকে বাস্তব যন্ত্রে রূপ দিতে পেরেছিলেন।
প্রায় আট শতাব্দী আগে জাজিরার সেই প্রকৌশলী যে যান্ত্রিক স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার অনেক মৌলিক নীতি আজকের আধুনিক প্রযুক্তির জগতে নতুন রূপে ফিরে এসেছে। তাই ইবনুল জাজারি শুধু অতীতের একজন মুসলিম বিজ্ঞানী নন; তিনি মানবসভ্যতার উদ্ভাবনী শক্তির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম, যঁার কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভবিষ্যতের অনেক প্রযুক্তির বীজ কখনো কখনো বহু শতাব্দী আগেই কোনো এক দূরদর্শী মানুষের চিন্তায় জন্ম নিয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
