কোন বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া উচিত—বিজ্ঞান এর কোনো সুনির্দিষ্ট বা বাধ্যবাধকতামূলক উত্তর দিতে পারে না। তবে গাণিতিক সূত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করলে এ বিষয়ে একটি চমৎকার ধারণা পাওয়া যায়।
পরিবার, সমাজ বা পারিপার্শ্বিক চাপের মুখে অনেকেই ভেবে থাকেন যে বিয়ের জন্য উপযুক্ত সময় পেরিয়ে যাচ্ছে কিনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ে করার আদর্শ বয়স হতে পারে ২৬, বিশের দশকের শেষভাগ কিংবা ত্রিশের শুরুর দিক।
বিজ্ঞান ও গণিতের বিচারে বিয়ে করার অন্যতম সেরা বয়স হলো ২৬। কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও মনস্তত্ত্ববিদদের লেখা ‘অ্যালগরিদমস টু লিভ বাই’ বইটিতে ‘৩৭ শতাংশ নিয়ম’-এর উল্লেখ রয়েছে।
এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত ৩৭ শতাংশ বিকল্প বাছাই করার পর গৃহীত সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে সঠিক হয়।
সাধারণত ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সকে জীবনসঙ্গী খোঁজার প্রধান সময় হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ের ৩৭ শতাংশ দূরত্ব পার হয় ২৬ বছর বয়সে। গবেষকদের মতে, ২৬ বছর বয়সে একজন মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, আবার অতিরিক্ত বিচার-বিশ্লেষণ করার কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার ঝুঁকিও কম থাকে। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নারী ও পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স যথাক্রমে ২৮ ও ৩০ বছর।
এদিকে মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বিয়ের জন্য আদর্শ সময় হলো বিশের দশকের শেষভাগ (২৮ বা ২৯ বছর)। ২৫ বছরের আগে মানুষের মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অংশটি পুরোপুরি বিকশিত হয় না। তাই ২৫ বছরের আগে বিয়ে না করে জীবনের নানা টানাপোড়েন ও মানসিক চাপ একসঙ্গে সামলানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করা জরুরি।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ে করার সেরা বয়স ২৮ এবং পুরুষদের জন্য ৩২ বছর।
নারীদের ক্ষেত্রে এই বয়সে পৌঁছালে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়। স্বাধীনভাবে থাকা এবং অতীতে সম্পর্কের ভুলগুলো থেকে শেখার পর জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ও আত্মসচেতনতা আসে।
আর ৩২ বছর বয়সের মধ্যে পুরুষেরা ক্যারিয়ারে স্থায়িত্ব পান এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে পরিপক্ব হন। এটি তাদের সম্পর্ক, সংসার ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
তবে বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের হিসাব যাই বলুক না কেন, সফল ও সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য কোনো একক নির্দিষ্ট বয়স নেই। নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানোর চেয়ে মানসিক প্রস্তুতি, উভয়ের বোঝাপড়া ও দায়িত্ব নেওয়ার সামর্থ্যই বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।