ছবি: ফাইল।
জীবনের শুরুটা ছিল সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে। ছিল না পৈতৃক সম্পত্তি, ছিল না রাজধানীতে চাকরি পাওয়ার জন্য কোনো পরিচিতজনের রেফারেন্স। পকেটে মাত্র ৭৫০ টাকা, চোখে হাজারো স্বপ্ন আর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় আসেন শাওন আহাম্মেদ। কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের এই তরুণ।
শাওন আহাম্মেদ মনিরুল ইসলামের বড়ো সন্তান। পারিবারিকভাবে পৈতৃক সম্পত্তির ওপর নির্ভর করার সুযোগ ছিল না তাঁর। রাজধানীতে কর্মজীবন শুরু করার ক্ষেত্রেও ছিল না কোনো বিশেষ সুপারিশ বা রেফারেন্স। নিজের যোগ্যতা, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমকে সম্বল করেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
কর্মজীবনের শুরুতে অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ করলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করেছিলেন শাওন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন, নতুন দক্ষতা শেখা এবং পেশাগত জীবনে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যান। সময়ের সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব ও কর্মক্ষেত্রে অবস্থানের পরিবর্তন আসে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার হিসেবে কর্মরত।
তবে চাকরিতে এই অবস্থানে পৌঁছেই থেমে থাকেননি তিনি। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান ‘পণ্য কুটির, চাকরি, ব্যাবসা, পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সবকিছু একসঙ্গে চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এই তরুণ।
কর্মজীবনে উন্নতি করতে হলে শুধু একটা চাকরি পাওয়া যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং প্রতিনিয়ত শেখার মানসিকতা। শাওন আহাম্মেদের কর্মজীবনের গল্পেও সেই প্রচেষ্টার প্রতিফলন দেখা যায়।
অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করার পর নিজের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করার মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে জানান তিনি।
বর্তমানে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন শাওন। একটি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম, কর্মীদের ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি অনুসরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এ বিভাগের ভূমিকা রয়েছে।
তাঁর এই অগ্রযাত্রা, কর্মজীবনের প্রাথমিক অবস্থানকে চূড়ান্ত গন্তব্য না ভেবে, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার গুরুত্ব তুলে ধরে। শাওন আহাম্মেদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা-মায়ের কোনো পৈতৃক সম্পত্তি ছিল না, এখনো নেই। ফলে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর নির্ভর করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ ছিল না তাঁর।
ঢাকায় চাকরির ক্ষেত্রেও কোনো পরিচিতজনের রেফারেন্সের ওপর নির্ভর করেননি বলে জানান তিনি। নিজের আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই যাত্রায় বাবা-মায়ের দোয়া এবং দুজন অত্যন্ত প্রিয় মানুষের সমর্থনকে বিশেষ গুরুত্ব দেন শাওন। তাঁর মতে, কাছের মানুষের সমর্থন এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস কঠিন সময়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি জোগায়।
ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্মান বজায় রেখে নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যাওয়াকে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে দেখেন। তাঁর কাছে সফলতা কেবল পদোন্নতি কিংবা আর্থিক অর্জনের বিষয় নয়, নিজের পরিচয় তৈরি করা এবং নিজের মূল্যবোধ ধরে রাখাও এর অংশ।
চাকরির বাইরে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলার লক্ষ্য থেকে ‘পণ্য কুটির’ নামে একটি ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন শাওন আহাম্মেদ। একদিকে চাকরির দায়িত্ব, অন্যদিকে ব্যাবসা পরিচালনা দুটি ক্ষেত্র একসঙ্গে সামলাতে সময় ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
নিজস্ব ব্যাবসা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে কর্মজীবনের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন শাওন। তাঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নিজের কর্মপরিধি বাড়ানো এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরির আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।
কর্মজীবনে ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনা বন্ধ করেননি শাওন। বর্তমানে তিনি স্নাতক সম্মান চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। একই সঙ্গে এইচআর ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক বিভাগে কাজের ক্ষেত্রে শ্রম আইন সম্পর্কে জ্ঞান থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রের নিয়মনীতি, কর্মীদের অধিকার এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে।
চাকরির বাস্তব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজের পেশাগত জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও ব্যাবসার সঙ্গে প্রশিক্ষণ চালিয়ে নেওয়াকে নিজের উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছেন শাওন। চাকরি, ব্যাবসা, পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে আলাদা দায়িত্ব ও সময়ের প্রয়োজন। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন এবং চিত্তবিনোদনের জন্যও সময় বের করতে হয়।
শাওন আহাম্মেদের ভাষ্য, এসব কাজ একসঙ্গে চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে নিজের অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর মতে, জীবনে সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। তবে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করে কাজ চালিয়ে যাওয়াও জরুরি।নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শাওন আহাম্মেদ মনে করেন, জীবনে এগিয়ে যেতে হলে শুধু স্বপ্ন দেখলেই হয় না, স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য।
মাত্র ৭৫০ টাকা নিয়ে ঢাকায় আসা থেকে শুরু করে, বর্তমান পেশাগত অবস্থানে পৌঁছানো এবং পাশাপাশি ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আত্মপ্রতিষ্ঠার একটি যাত্রা। তাঁর বক্তব্য, জীবনের প্রতিটি ধাপে নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে কাজ করতে হবে। পরিস্থিতি সব সময় অনুকূলে থাকবে না, তবে চেষ্টা ও শেখার মানসিকতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তরুণদের জন্য তাঁর এই অভিজ্ঞতা একটি বার্তা বহন করে কর্মজীবনের শুরুতে পদমর্যাদা বা আর্থিক সামর্থ্য কম থাকলেও দক্ষতা অর্জন, সৎভাবে কাজ করা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের সন্তান শাওন আহাম্মেদের পথচলা শুরু হয়েছিল সীমিত আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে। আজ তিনি রাজধানীর একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি পরিচালনা করছেন নিজের ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান ‘পণ্য কুটির’ এবং চালিয়ে যাচ্ছেন উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ।
তাঁর এই অগ্রযাত্রা দেখায়, জীবনের শুরুতে আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নিজের দক্ষতা বাড়ানো, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সফলতার পথ সবার জন্য এক নয়, প্রত্যেককে নিজের পরিস্থিতি ও সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হয়।
বাবা মনিরুল ইসলামের বড়ো সন্তান শাওন আহাম্মেদের সামনে এখন আরও এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য। চাকরি, ব্যাবসা ও শিক্ষাজীবনে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে চান তিনি। মাত্র ৭৫০ টাকা নিয়ে ঢাকায় আসা থেকে শুরু করে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার এই যাত্রা তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর সেই যাত্রার মূল শক্তি হিসেবে তিনি দেখছেন বাবা-মায়ের দোয়া, প্রিয়জনদের সমর্থন, আত্মবিশ্বাস এবং নিরলস পরিশ্রমকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
