× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

‘হ্যাঁ’ মানে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি : ভিপি সাদিক কায়েম

মাহমুদ খান, সিলেট

৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ এএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে নতুন প্রজন্মের জন্ম হয়েছে, সেই প্রজন্ম আজ ইনসাফের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। আসন্ন গণভোটে ‘হ্যা’ কে বিজয়ী করতে হলে সবাইকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এই আন্দোলনকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, এই গণভোট শুধু একটি ভোট নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ভোট, যেখানে ‘হ্যা’ মানে আজাদি, বিচার, জনগণের ক্ষমতা এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদের আয়োজনে ‘হ্যা’-এর পক্ষে আয়োজিত গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে প্রজন্ম তৈরি হয়েছে, তারা আর অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে চায় না। গণভোটে ‘হ্যা’ বিজয়ী করতে হলে এখানে যারা উপস্থিত আছেন, প্রত্যেককে একজন করে অ্যাম্বাসেডর হতে হবে। সিলেটের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গিয়ে আমাদেরকে প্রচারণা চালাতে হবে, মানুষকে বোঝাতে হবে কেন ‘হ্যা’ দরকার।

তিনি বলেন, এই ‘হ্যা’ মানে হলো আজাদি। এই ‘হ্যা’ মানে হলো শহীদ উসমান হাদী হত্যার বিচার। এই ‘হ্যা’ মানে হলো বাংলাদেশে গত ৫৪ বছরে যে পরিবারতন্ত্র তৈরি হয়েছে, সেই পরিবারতন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া। এই ‘হ্যা’ মানে হলো প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। এই ‘হ্যা’ মানে হলো কৃষকের টাকা, শ্রমিকের টাকা, রিকশাচালকের টাকায় যে দেশ চলে, সেই মানুষগুলোর সন্তানকে আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, এই ‘হ্যা’ মানে হলো বিগত আমলে তৈরি হওয়া খুন, আয়নাঘর ও গুমের রাজনীতির বিচার নিশ্চিত করা। খুনি হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের আওতায় আনা এবং যে ফ্যাসিবাদী কাঠামো দেশে গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণ করা। এই ‘হ্যা’-এর পক্ষে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সকল ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরা অবস্থান নিয়েছে। সুতরাং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে প্রথম সিলটি দিতে হবে ‘হ্যা’-এর পক্ষে।

সাদিক কায়েম বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি রাজনৈতিক দল ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, এই ‘না’ মানে হলো ভারতের দালালি করা। এই ‘না’ মানে হলো দিল্লির দালালদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। এই ‘না’ মানে হলো স্বাধীন বাংলাদেশে আবার দিলখানা হত্যাকাণ্ডের বন্দোবস্ত করা। এই ‘না’ মানে হলো বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে আবার শহীদ করার পরিকল্পনা করা। এই ‘না’ মানে হলো বিগত সময়ে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছিল, সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যেই আবার নির্বাচন করার আয়োজন করা। এই ‘না’ মানে হলো আবার আয়নাঘর তৈরি করা এবং ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে মাইকেল হত্যাকাণ্ডের মতো বোমা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরিয়ে আনা।

তিনি বলেন, জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে বাংলাদেশে যারা অন্যায়ের পক্ষে দালালি করবে, তাদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ১১ দলীয় জোট, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকে ‘হ্যা’-এর পক্ষে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা একসময় পাশে ছিল, তাদের একটি অংশ আজ ‘না’-এর দিকে ঝুঁকে পড়েছে-এটা আমাদের কষ্ট দেয়।

ভিপি কায়েম বলেন, আমাদের সম্মানিত তারেক রহমান বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দিচ্ছেন, বড় বড় মঞ্চে নাটক হচ্ছে, কিন্তু একবারের জন্যও সেখানে ‘হ্যা’-এর স্লোগান শোনা যায় না, ‘হ্যা’-এর ডায়ালগ শোনা যায় না। তাহলে আমরা কি ধরে নেব যে তিনি ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন? তিনি বলেন, ‘না’ মানে হাসিনা, ‘না’ মানে মোদি, ‘না’ মানে হাসিনার ফ্যাসিবাদী কাঠামো রাষ্ট্রের ভেতরে রেখে দেওয়া। আপনারা কি সেই হাসিনা হতে চান? যদি চান, তাহলে স্পষ্ট করে বলুন। কারণ যেভাবে হাসিনাকে আমরা দেশ থেকে বের করে ভারতে পাঠিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আমরা আপনাদের সঙ্গেও ডিল করবো।

তিনি বলেন, এখনো সময় আছে। আমরা আশা করবো আপনারা আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করবেন। আমাদের সহানুভূতি আছে। আমরা জানি শহীদ জিয়ার অবদান আছে, বেগম খালেদা জিয়ার অবদান আছে। কিন্তু আজকের যে বিএনপিকে আমরা দেখছি, সেই বিএনপি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে না। তারা বাংলাদেশের মুক্তির রাজনীতি ধারণ করছে না। বরং ফ্যাসিবাদী কাঠামো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতিই আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা নিজেদের মধ্যে সংশোধন করুন। জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করুন, জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করুন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘হ্যা’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন শুরু করুন। যদি তা না করেন, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, তার আগেই বাংলাদেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা আপনাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে দেবে।

ভিপি কায়েম বলেন, একসময় শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি একটি বড় দল ছিল। কিন্তু গত দেড় বছরে ভুল নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতির কারণে আজ বিএনপি ছোট দলে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, যদি আবার আগের অবস্থানে ফিরতে চান, তাহলে এখনো সময় আছে-‘হ্যা’-এর পক্ষে অবস্থান নিন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করুন এবং গণতান্ত্রিক ধারার পথে বাধা সৃষ্টি করবেন না।

তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার দলের সন্ত্রাসীদের সামলান। গতকাল শেরপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে বিএনপি সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। এখনো পর্যন্ত এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং বহু সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, আপনারা যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে আপনাদের পরিণতিও আগের নির্বাচন কমিশনের মতোই হবে।

তিনি বলেন, একইভাবে গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি সন্ত্রাসীরা ৫০টির বেশি জায়গায় মা-বোনদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করলে হাত ভেঙে দেওয়া হবে। জুলাই বিপ্লবে যেভাবে খুনি হাসিনা পালিয়ে গেছে, আবার যদি এমন হামলা হয়, তারাও পালানোর সুযোগ পাবে না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি পরিবারতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেয়, তাহলে তাদের এখানে থাকার অধিকার নেই।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.