ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু এবং দলটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান সমন্বয়ক সারজিস আলমের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। যমুনা টিভির ছাঁচে তৈরি ফটোকার্ডে শিরোনাম ছিল, ‘এনসিপি নেতা সারজিস আলমের সঙ্গে মাহমুদা মিতুর পরকীয়া প্রেমের গুঞ্জন,’ এবং একাত্তর টিভির ছাঁচে তৈরি ফটোকার্ডে লেখা ছিল, ‘এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও মাহমুদা মিতুর মদপানরত ছবি ভাইরাল।’ এই কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
রিউমার স্ক্যানার সম্প্রতি লক্ষ্য করেছে, Elias Journalist নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এই ফটোকার্ড দুটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে। একই প্রোফাইলে মিতুর পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের একটি ছবিও পোস্ট করা রয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যমুনা টিভি ও একাত্তর টিভির নামে ছড়িয়ে দেওয়া বিতর্কিত ফটোকার্ড দুটি আসল নয়। ফটোকার্ড দুটির পাশাপাশি আরও একটি আলাদা পোস্টের ছবিও বাস্তব নয়। আসলে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে মাহমুদার নামে ভুয়া ছবি তৈরি করা হয় এবং এগুলো নকল ফটোকার্ডের মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিতর্কিত ফটোকার্ড দুটো একাত্তর টিভি এবং যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়নি। ফটোকার্ডে থাকা শিরোনামের কিওয়ার্ডগুলো দিয়ে সার্চ করলে দেশের কোনো গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। এছাড়া ফটোকার্ডে ব্যবহৃত মাহমুদা মিতু ও সারজিস আলমের ছবিগুলোও রিভার্স সার্চে পুরনো কোনো আপলোড হিসেবে পাওয়া যায়নি। পরে, ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কি না তা যাচাই করতে রিউমার স্ক্যানার গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। গুগলের এই প্রযুক্তি এআই-সৃষ্ট ছবি, ভিডিও বা অডিওতে অদৃশ্য জলছাপ (watermark) যুক্ত করে, যা সরাসরি দেখা যায় না, তবে গুগলের নিজস্ব টুলের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। সিন্থআইডি বিশ্লেষণে জানা গেছে, ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত।
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে মিতুর যে ছবিটি প্রচার হচ্ছে, রিভার্স সার্চ এবং প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধান করে বিশ্বস্ত সূত্রে ছবিটির অস্তিত্ব মেলেনি। সিন্থআইডি জানাচ্ছে, এটিও গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি বা সম্পাদিত। গুগলের এই প্রযুক্তি ছবিটি এআই হওয়ার কারণ হিসেবে অস্বাভাবিক হাত ও আঙুল, পোশাকের টেক্সট ও ডিজাইন, আলো ও ছায়া এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের বিশদ সংক্রান্ত চারটি যুক্তি দেখিয়েছে।
ইলিয়াস জার্নালিস্ট নামের যে ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এই তিন ছবি-ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রোফাইল থেকে নিয়মিতই ভুয়া ফটোকার্ড, এআই দিয়ে সেলিব্রিটিদের ছবি সম্পাদনা করে বিকৃতভাবে প্রচারের বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। গেল বছরের জুলাইয়ে খোলা এই অ্যাকাউন্টটি মূলত ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ‘মগবাজার টিভি’ নামে একটি কথিত প্ল্যাটফর্মের সিনিয়র জার্নালিস্ট পরিচয় ব্যবহার করা হলেও এর বাস্তব কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি অ্যাকাউন্টটির প্রোফাইল ছবিটিও এআই দিয়ে তৈরি।
সুতরাং, মাহমুদা মিতুকে নিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া এবং ছবি তিনটি এআই জেনারেটেড।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
