× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি

রাশেদ আহমেদ মিতুল

১৪ মে ২০২২, ১৯:১০ পিএম

ফাইল ছবি

গত পাঁচ মাস বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে করা আন্দোলনে দৃশ্যমান কোনো সাফল্য আনতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আন্দোলনে সফল না হওয়ার কারণ হিসেবে বর্তমান সরকারের ‘অগণতান্ত্রিক চরিত্র’ ও ‘দমননীতিকে’  দায়ী করছেন দলের নেতারা।  

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা ও মুক্তি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি দলের নেতাকর্মী তথা জনগণকে রাজপথে নামাতে পারেনি কিম্বা সরকারের উপর কোন চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে আন্দোলনে নেওয়া কর্মসূচিসমূহ যৌক্তিক কোনো ফলাফল আনতে ব্যর্থ হয়েছে। মূলত গত ২০ নভেম্বর বিএনপির দেশব্যাপী গণঅনশন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবিতে আন্দোলনের সূচনা হয়। খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর আন্দোলনের সাথে তাঁর মুক্তির দাবিটাও যোগ করা হয়।

খালেদা ইস্যুকে কম গুরুত্ব দিয়ে বিএনপি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মার্চ প্রতীকী অনশনসহ ২২ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। বর্তমানে আন্দোলনের তেমন কোন কর্মসূচি নাই বিএনপির।

সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে না পারার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সারাবেলাকে টেলিফোনে বলেন ‘বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত না। জনগণের পক্ষের বা জনগণের কল্যাণের জন্য কোন দাবি বা আন্দোলনের চাপ অনুভত হয় না তাদের। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তুলে এই সরকারের পতন ছাড়া জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক কোনো মুক্তি আসবে না।’ 

‘সুতারাং আমাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে কর্মসূচি থাকবে এবং এই সরকারের পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের যে শক্তি অর্থাৎ সরকার গঠনে বা অন্যান্য বিষয়ে সেই শক্তি ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে আমরা সেই কর্মসূচির দিকে এখন এগিয়ে যাব।’ 

দলের নেতাকর্মী বা জনগণকে রাজপথে নামাতে না পারার বিষয়ে রিজভী বলেন ‘যখন একটি ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সরকার থাকে তখন তো একটা আতংকের পরিবেশ থাকে। এর মধ্যেও যত নেতাকর্মী এবং মানুষের অংশগ্রহণ রয়েছে তাতে সরকার আরও বেশি অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়েছে।’  

‘আর এই সরকারককে তো জবাবদিহি করতে হয়না জনগণের কাছে। সুতারাং জনগণের দাবির পক্ষে কোনো আন্দোলনে সেই চাপ অনুভব করবে না। কেননা তারা জানে যে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়। সুতারাং আমরা জনগণের পক্ষে আন্দোলন করে যাবো এবং একটা বৃহত্তর আন্দোলন করে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় সরকার গঠন করে তার মাধ্যমে জনগণের শক্তিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো। সেই দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ 

আন্দোলনে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে না পারার কারণ জানতে চাইলে বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সংবাদ সারাবেলাকে টেলিফোনে বলেন ‘আসলে বর্তমান সরকার যদি গণতান্ত্রিক সরকার হতো তাহলে জনগণের অবস্থার, মানুষের দুর্দশা, দেশের সংকট এবং আন্দোলনের গুরুত্ব তারা অনুধাবন করতে পারতো। বর্তমান সরকার তো আসলে গণতান্ত্রিক নয়, কর্তৃত্ববাদী সরকার।’ 

‘এ সরকার মানুষ, দেশের অবস্থা কোনো কিছুই আমলে নেয় না। তাদের কাছে ক্ষমতাটাই প্রধান একটা দিক। আর কর্তৃত্ববাদী শাসনের অন্যতম দিক হচ্ছে  দুর্নীতিপরায়ণ সেটা তারা করতে পারছে কিনা। সব মিলিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার হলে চাপটা অনুভব করে। আর কর্তৃত্ববাদী শাসনে ভবিষ্যতে কোন দায়বদ্ধতা থাকে না জবাবদিহিতা থাকে না। মনে করে অতীতে যেভাবে তারা ক্ষমতায় এসেছে ভবিষ্যতেও সেভাবে আসবে।’ 

আন্দোলনে দলের নেতাকর্মী বা জনগণকে রাজপথে নামাতে না পারার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে দুদু বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রশ্নটা আংশিক সত্য হতে পারে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো একজন মানুষ তিনি একটা নিরীহ কর্মসূচি মানুষের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন ঈদ পুনর্মিলনীতে তাঁর বাড়ি আক্রমণ করা হয়েছে, রেদোয়ান সাহেব একটা দলের সেক্রেটারি, সাবেক মন্ত্রী তাঁকেও আক্রমণ করা হয়েছে। আমাদের জহির উদ্দিন স্বপন সাবেক এমপি তাঁর উপরও আক্রমণ হয়েছে। এরকম বিভিন্ন জায়গায় থানা, ইউনিয়ন, জেলায় এত ঘটনা যেখানে মূল জিনিষটা লিখতে পারছে না পত্র পত্রিকায়, ডিজিটাল আইনের কারণে। এই ভয়ভীতির সংস্কৃতি যেটা তৈরি করা হয়েছে সেটাকে আমলে নিয়ে মানুষ চট করে এইভাবে নামছে না। একটা পরিস্থিতিতে নানানভাবে, শুধু যে বিএনপি তা না সব দলই এমনকি পেশাজীবীরাও নানাভাবে চেষ্টা করছে। কখন কোন ঘটনা ঘটবে এটা তো আন্দোলনে বা রাজনীতিতে আগে থেকে বলা যায় না। আমার মনে হয় ভবিষ্যতে অন্যরকম হতে পারে।’       

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সংবাদ সারাবেলাকে টেলিফোনে বলেন ‘আন্দোলনে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারি নাই মানে হচ্ছে যে, মানুষের সঙ্গে যখন দৈত্য-দানবের লড়াই হয় তখন মানুষের লড়াইটা অসম হয়।’ 

বর্তমান সরকারকে দৈত্য দানবের সাথে তুলনা করে আলাল বলেন, ‘দৈত্য দানবের ক্ষমতা তো অনেক বেশি। এরা তো রাষ্ট্র ও সরকারকে একাকার করে ফেলেছে। সে কারণে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে আমাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের আন্দোলনটা জনসম্পৃক্ত সেখানেও ১৭ জায়গায় হামলা করা হয়েছে।’     

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে নামাযের পর দোয়া করেছে সেজন্যে মসজিদের ইমামের চাকরি চলে গেছে। এ থেকে বোঝা যায় যে, নির্যাতনের মাত্রাটা কতটুকু। সরকার চাপ অনুভব করছেনা ঠিকই কিন্তু সরকারের ভিতরে ভিতরে যে অস্বস্তি, নিজেরা যে অস্থিরতায় ভোগে এ জন্যে তাদের আভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে প্রতিদিনই একজন দুইজন মারা যাচ্ছে বা আহত হচ্ছে। ওই দানবীয় শক্তিটা এখন নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত।’ 

আন্দোলন দলের নেতাকর্মী বা জনগণকে রাজপথে নামাতে সমর্থ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আলাল বলেন, ‘আপনি যেটা বলছেন, এটা ঠিক কিন্তু আগের যে ব্যাকরণসম্মত আন্দোলনের যে স্টাকচার সেই অনুযায়ী যে সব সময় সবকিছু হবে এমনটা না। সব কিছুর তো একটা পরিবর্তন হয়েছে সারা পৃথিবীজুড়েই। সেটার মধ্য থেকে কখন জনবিস্ফোরণ ঘটবে, একদিন দুইদিন, তিনদিনের মাথায় তো অনেক কিছু হয়। শ্রীলংকায় কতদিন ধরে ঝামেলা চলছে আজকে শুরু হয়েছে মন্ত্রীদের বাড়িতে আগুন দেওয়া এমপি কে মেরে ফেলা। কখন কি হবে এটা বলা খুব কঠিন। মানুষ ক্ষোভে ফুসছে।’   

বিএনপি দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কর্মসূচির অংশ হিসাবে সর্বশেষ গত ১৯ মার্চ প্রতীকী অনশনসহ ৫-দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচিগুলো ছিল, গত ২২ মার্চ প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান, ২৪ মার্চ ঢাকা ব্যতিত সকল মহানগরীতে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন, ৩০ মার্চ সকল জেলা সদরে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন, ৩১ মার্চ সকল উপজেলা পর্যায়ে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন, ২ এপ্রিল ঢাকা মহানগরীতে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন।

এছাড়া বিএনপি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ও উপজেলা পর্যায়ে টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে ‘পর্যাপ্ত পণ্য’ বিক্রির ব্যবস্থার দাবিতে ১১-দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসুচিগুলোতে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। 

দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্যাকেজ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচিগুলি ছিল গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ, ২৮ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় সদর ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ, ২ মার্চ সারাদেশে জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ, ৫ মার্চ সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ, ৬ মার্চ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, ৮ মার্চ জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, ৯ মার্চ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সারাদেশ বিক্ষোভ সমাবেশ, ১০ মার্চ কৃষক দলের উদ্যোগে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, ১২ মার্চ সারাদেশে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে হাট-বাজারে হাটসভা ও লিফলেট বিতরণ, ১৪ মার্চ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ১৫ মার্চ জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের উদ্যোগে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ।

কর্মসূচি ঘোষণা কালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায়ে এসব কর্মসূচি নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে সম্পৃক্ত করতে যাচ্ছি।

এই সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে দেশবাসীকে আহবান জানাচ্ছি তাদের প্রয়োজনে এসব কর্মসূচিতে যোগ দিন।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকারের কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের যেমন বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেই, উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেই। দুর্নীতির কারণে এমন একটা পর্যায় চলে গেছে যে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০-২৮% জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

ফখরুল আরও অভিযোগ করেন ‘বাজারের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটগুলো তৈরি করা হয়েছে তারা কৃত্রিমভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই সরকারের আমলে কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। সরকার চরম দুর্নীতির যে অ্যাফেক্ট, তার প্রভাব বাজারে গিয়ে পড়ছে এবং জনগনকে তার মাশুল দিতে হচ্ছে।’

গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি সভায় অবিলম্বে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যমূল্য হ্রাস করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ সাংবাদিকদের জানান।

ফখরুল বলেন সভা মনে করে ‘সরকারের দুর্নীতি ও সরকারি দলের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ীদের অনৈতিক মুনাফার জন্য জ্বালানি তেল ও নিত্য ব্যবহার দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যা জনগণের জন্য দুর্ভোগের কারণ সৃষ্টি করছে। তেল, গ্যাস, পানি ও চাল-ডাল-তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য দুঃসহ ভোগান্তি তৈরি করছে। অবিলম্বে ভোক্তা পর্যায়ে এসব পণ্য মূল্য হ্রাস করে বিশেষ করে তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস মূল্য বৃদ্ধি বাতিল করে তা পূর্বের মূল্যে স্থির করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’

ওমিক্রনের বিস্তারের কারণে গত ১৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ প্রেরণের দাবিতে জেলা পর্যায়ে বিএনপির যে চলমান সভা-সমাবেশের কর্মসূচি চলছিলো তা স্থগিত করেছিলো দলটি।

ফলে গত ১৪ জানুয়ারির পর থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলন বন্ধ হয়ে যায়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার উন্মুক্ত স্থানে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত পূর্বঘোষিত নির্ধারিত কর্মসূচি পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

কিন্তু বিএনপি পূর্বঘোষিত জেলায় সমাবেশের কর্মসুচি পুনঃনির্ধারণ করেনি।

দ্বিতীয় ধাপে বিএনপি অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে দেশের ৪০ টি জেলায় গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সমাবেশের ঘোষণা দেয়। গত ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬টি জেলায় সমাবেশ করেছে। 

খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর আন্দোলনকে  জোরদার করতে দলটি প্রথম ধাপে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩২টি জেলায় সমাবেশে করে বিএনপি।

রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে ৮১ দিন পর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে গত ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর গুলশানের বাসভবনে আনা হয়। বর্তমানে তিনি বাসায় আছেন।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.