× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

একজন ভিশনারি পরিকল্পনাবিদ সম্পর্কে আমার কিছু কথা

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:০০ পিএম

আব্দুল কাইয়ুম: প্রথমে ভাবলাম গুগল সার্চ দিয়ে দেখি তো ওরা বাংলাদেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও অসাধারণ দক্ষতায় সমৃদ্ধ পরিকল্পনাবিদ ড. শামসুল আলম সম্পর্কে কতটা গভীরে যেতে পেরেছে। দেখলাম যথার্থ মর্যাদায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতি সেখানে রয়েছে। পাতায় পাতায় তার জীবনের সেরা অর্জনের কথা লেখা আছে। বলাবাহুল্য এই অর্জনগুলো দেশের কল্যাণেই নিবেদিত। চোখ গেল বিজ্ঞানী, গবেষণাবিদ ও উদ্ভাবনী দক্ষতায় সমৃদ্ধ স্বনামধন্য ব্যক্তিদের গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ফিউচার আর্থ পত্রিকার পাতায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা তাঁদের শ্রম ও মেধা দিয়ে আমাদের এই পৃথিবী নামক গ্রহটিকে আরও বেশি টেকসই করার জন্য কাজ করছেন, তাঁদের পরিচিতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই এই সাময়িকীর একটি অন্যতম কাজ। ড. শামসুল আলমের মেধার স্বীকৃতি সেখানে যথাযথ গুরুত্ব পেয়েছে।

আমাদের খুব কাছের একজন মানুষ ড. শামসুল আলম। একজন সাংবাদিক হিসেবে খুব কাছ থেকে তাঁর কথা ও কাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় লাভের সুযোগ আমার হয়েছে। তাঁর লেখনী, কাজ ও অবদান সম্পর্কে জানার জন্য অন্তত আমাকে খুব বেশি সময় দিতে হয়নি। কারণ পেশাগত কারণেই খুব কাছ থেকে তাঁকে দেখা ও বোঝার সুযোগ আমার হয়েছে।

আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে তাঁর সঙ্গে একবার তাঁদের গ্রামে আমার দেখা হয়েছিল। তখন সদ্য স্বাধীন দেশ। ১৯৭২ সাল। মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ঢাকা থেকে লঞ্চে আমি মতলবে যাই। সেখানে অনেকের মধ্যে শামসুল আলম ভাই ছিলেন। কিন্তু তাঁর মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা ছিল, সেটা তো তখন বোঝা সম্ভব ছিল না। আজ দীর্ঘ সময় পর আমাদের পত্রিকা অফিসে তাঁর সঙ্গে আবার দেখা। একটি গোলটেবিল বৈঠকে। আলোচনার বিষয় ছিল এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করণীয়। এরপর অবশ্য এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে যখনই আমরা তাঁকে সম্মানিত আলোচক কিংবা অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছি, তিনি সঙ্গে সঙ্গে সম্মত হয়েছেন। আমি যখনই তাঁর আলোচনা শুনেছি, অভিভূত হয়েছি। এত বড় মেধা ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী একজন ব্যক্তির কথা শোনার জন্য বিদেশে হয়তো টিকিট কিনে যেতে হতো। কিন্তু এখানে তিনি সব সময় বিনা বাক্যব্যয়ে বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা এত সহজে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভিজ্ঞতা জানতে পেরেছি, এখনো জানতে পারছি।

ড. শামসল আলম পরিকল্পনা কমিশনের জেনারেল ইকোনমিক ডিভিশনের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যে অসাধারণ অবদান রেখে চলেছেন, ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। তাঁর মতো একজন গভীর জ্ঞান ও বাস্তবধর্মী চিন্তাধারার ব্যক্তি আমাদের দেশের নীতিনির্ধারণী স্তরে ভূমিকা রাখছেন, এটা আমাদের দেশের জন্য গৌরবের বিষয় এবং অহংকারের বিষয়। তিনি একাধারে অর্থনীতিবিদ, কৃষিবিদ ও পরিকল্পনাবিদ। তাঁর পড়াশোনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর তিনি ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব নিউ ক্যাসল থেকে পিএইচডি করেন। এর আগে ব্যাংককের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন আর্থনীতিতে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার এই ভিত্তিই তাঁকে অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আমাদের দেশের অনেক মেধাবী ব্যক্তি বিদেশে উচ্চশিক্ষা লাভ করে আমেরিকা ইংল্যান্ড-কানাডা-অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গবেষণার কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই বিদেশে অনেক বড় বড় সাফল্য অর্জন করছেন। আবার অনেকে দেশে ফিরে এসে কাজ করছেন। ড. শামসুল আলম তাঁদেরই অন্যতম। 

বিজ্ঞান বিষয়ে তাঁর লেখা প্রায় ৫৫টি গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি গবেষণা ও অর্থনীতি বিষয়ে ১২টি বই লিখেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে অন্তত ৪০টি মাস্টার্স থিসিস ও দুটি পিএইচডি ডিসারশন সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া তিনি ২৫টি বই সম্পাদনা করেছেন। আরও কাজ তিনি এখনো করে চলেছেন।

ড. আলম ২০০৯ থেকে প্ল্যানিং কমিশনে দায়িত্বশীল পদে থেকে অবদান রাখছেন। তিনি ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নে শুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাছাড়া বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এবং বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১-এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেকেন্ড পার্সপেকটিভ প্ল্যান (২০২১-২০৪১) প্রণয়নে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এখানে আমরা স্মরণ করতে পারি যে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এই সময়কালেই সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বড় বড় সাফল্য আমরা অর্জন করেছি। ড. শামসুল আলমের কাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তিনি তাঁদের কাজের সাফল্যের কথা বলতে ও প্রচার করতে যতটা আগ্রহী, তার চেয়ে বেশি আগ্রহী অন্যদের কথা শুনতে। তিনি অত্যন্ত মনোযোগী শ্রোতা। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও এসডিজি বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি পরিকল্পনা কমিশন কার্যালয়ে বিভিন্ন পেশা ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করেন। সেখানে অন্যদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সব সময় আমন্ত্রণ জানান। তাঁদের কথা বলার সুয়োগ দেন। আমাদের পত্রিকার উদ্যোগে এসব বিষয়ে আলোচনায় তিনি আগ্রহ নিয়ে সব সময় আসেন, সে কথা আগেই বলেছি। বিভিন্ন টেলিভিশনে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনায় তিনি সব সময় অংশ নেন এবং তথ্য-উপাত্তভিত্তিক কথা বলেন।

এখন করোনার এই দুঃসময়েও আমরা তাঁকে ডিজিটাল প্লাটফর্মে আমন্ত্রণ জানাই। তিনি আমাদের আলোচনায় যুক্ত হন আগ্রহ নিয়ে। মতবিনিময় তাঁর কাজের একটি বড় পদ্ধতি। সবার মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করলে বাস্তবায়ন সহজ হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজি তিনি সব সময় অনুসরণ করেছেন।

ড. শামসুল আলমের অনুসৃত পথে বাংলাদেশ আগামী দিনে আরও বড় বড় সাফল্য নিয়ে আসবে, সন্দেহ নেই।


লেখক: আব্দুল কাইয়ুম, সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো।

Sangbad Sarabela

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: জান্নাতুল ফেরদৌস

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.