× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কী আছে পাকিস্তানের ভাগ্যে!

সুকুমার সরকার

০৮ এপ্রিল ২০২২, ২০:৩৯ পিএম

ইমরান খান

গণতন্ত্রের নামে পাকিস্তানে একটা খেলা চলছে। শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়াবে তা অনিশ্চিত। তবে সেখানে যা চলছে, তার মূল নায়ক সেনা কর্মকর্তারা তা আর বলার অপেক্ষা  রাখেনা। কেননা অতীতের ঘটনাবলী তাই বলছে বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। অনুগতদের দিয়ে সেনা কর্মকর্তারা ঘোট পাকিয়ে ঘোলা জলে মাছ শিকার করে থাকেন।

অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রক্ষায়  দেশটির প্রেসিডেন্ট বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন। ঘোষণা এসেছে  আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার আর প্রেসিডেন্টের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ইমরান খান মঙ্গলবার বলেছেন, আগামী জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিজের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। অর্থাৎ সতীর্থদের পুনরায় ব্ল্যাকমেইল  এড়াতে তিনি কেন্দ্রে আর জোট সরকার গঠন করবেন না। মঙ্গলবার লাহোর গভর্নর ভবনে এক গণজমায়েতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় ইমরান স্বীকার করে বলেন, অতীতে তার দল অনেক ভুল করেছে এবং সেগুলোর জন্য ‘চড়া মূল্য’ দিতে হয়েছে। সেই ভুল থেকে তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করে দেন। সংবিধানের পঞ্চম অনুচ্ছেদের সঙ্গে এই অনাস্থা প্রস্তাব সাংঘর্ষিক বলে সংসদে উল্লেখ করেন তিনি। অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পর ইমরান লিখিতভাবে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব জানান।

প্রেসিডেন্ট সেই প্রস্তাব অনুমোদন করে বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হওয়ায় জাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইমরান খান। তিনি বলেন, দেশে শাসন পরিবর্তনের বিদেশি প্রচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে নাকচ করেছেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান।

ইমরান বলেন, আমি উদ্বিগ্ন অনেক লোকের কাছ থেকে বার্তা পেয়েছি। জাতির সামনে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, চিন্তা করবেন না, পাকিস্তানে যা হচ্ছে তা আল্লাহ দেখছেন। এর আগে অধিবেশনের শুরুতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পদক্ষেপের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল।

সংবিধানের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের কর্তব্য হচ্ছে দেশের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা। ইমরান খান অভিযোগ এনে বলেন, ‘স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি’ গ্রহণ করায় একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টাকারী সেই ‘বিশ্বাসঘাতককে’ আগামী সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তানি জাতি একটি শিক্ষা দেবে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ এই বিশ্বাসঘাতকদের (বিরোধী নেতাদের) রাজনীতি চিরতরে শেষ করে দিয়ে একটি শিক্ষা দেবে।

 এটা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট যে, সামরিক কর্তাদের সঙ্গে ইমরানের সখ্যতা তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। যে কারণে ইমরানের আজ  এই অবস্থা। এই দুই পক্ষের তিক্ততা এখন প্রকাশ্যেই রুপ নিয়েছে। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের বয়স দেড় মাসের কাছে।এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানায়নি।

গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দিনের ২৩–২৪ ফেব্রুয়ারি সফরে মস্কোয় যান ইমরান খান। ওই সময় রাশিয়া সফরে না যেতে যুক্তরাষ্ট্র ইমরানকে অনুরোধ করেছিল। ইমরান খান তাতো শোনেননি, রাশিয়ার পাশেই থাকার বার্তা দিয়ে এসেছেন।

অপরদিকে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেনাপ্রধান কামার বাজওয়া বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। কামার বাজওয়া একটি ছোট দেশ ইউক্রেনের ওপর রুশ হামলাকে ‘বিশাল মর্মান্তিক ঘটনা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

কামার বাজওয়া  বলেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ যথাযথ। কিন্তু তা সত্ত্বেও ছোট দেশে রাশিয়ার আগ্রাসন গ্রহণযোগ্য নয়। বাজওয়া আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে পাকিস্তানের সুন্দর প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক উপভোগ করেছে। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বেশ কিছু কারণে দীর্ঘদিন শীতল ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রাশিয়া থেকে ফিরে আসার পরেই ইমরান খান সংসদে বিরোধী সংসদ সদস্যদের অনাস্থার মুখে পড়েন।

ইমরান অভিযোগ করে বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া সফরে যাওয়ায় একটি ক্ষমতাধর দেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে।ক্ষমতাধর বলতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করেছেন।জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি শরিক দল বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় ইমরানের দল। বিরোধী দলগুলোর আইনপ্রণেতার সংখ্যা বেড়ে যায়। কোণঠাসা হয়ে পড়া ইমরান খান অবশ্য বরাবরই আত্মপ্রত্যয়ী ছিলেন। শেষ মুহূর্তে ফলাফল পাল্টে দেবেন বলে জোর দিয়ে বলেছিলেন ইমরান।

খ্যাতনামা ক্রিকেটার ইমরান খান রাজনৈতিক জীবনে এমন অনিশ্চয়তার মুখে আগে কখনো পড়েননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার অল্প হলেও শুধুমাত্র বাহিনীর অনুকম্পায় বাঘা বাঘা রাজনৈতিক নেতাদের হটিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসেন। শুধু ক্রিকেটাঙ্গনই প্লেবয় হিসেবেও তার একটা পরিচয় আছে। একাধিক প্রেম-বিয়ে বা বহু নারীকে শয্যাসঙ্গী করা ইমরানের কাছে কিছুই না।

গত কিছুদিন ধরে ইমরানের প্রধানমন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে বেশ কানা-ঘুষা চলছিল। অনাস্থা ভোটের আগে পাকিস্তানের সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা।

গত বৃহস্পতিবার অনাস্থা ভোটের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই দাবি জানান তারা। অধিবেশন শুরুর পরপরই জাতীয় পরিষদের স্পিকার তা স্থগিত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশটির বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা। এ সময় বিরোধীদের ‘গোইমরানগো’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ।

যদিও পাকিস্তানে গত কথিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের পুরানো দলগুলোর বাঘা বাঘা রাজনৈতিক নেতাদের পরাজিত সেনাবাহিনী ইমরানের পুতুল সরকারকে বসায়।অর্থাৎ এক ঢিলে দুই পাখি মারা- ক্ষণিকের জন্য হলেও রাজনৈতিক নেতাদের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা আর পুতুল সরকার দিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো সরকার পরিচালনা করা। এতোদিন সবই ঠিকঠাক ছিলো। কিন্তু রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে পক্ষ সমর্থন নিয়ে ইমরানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্বের বিষোয়টি সামনে চলে এসেছে।  পাকিস্তানের সেনা বাহিনীকে বরাবরই পরিচালনা করে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সিয়েটো-সেন্টো সামরিক প্যাক্টে যে পাকিস্তান যোগ দিয়েছে তাও যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে।যে জন্য পাকিস্তান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢালাও অনুদান পেয়ে আসছে।

ব্রিটিশদের হাত থেকে ১৯৪৭ সালে মুক্ত হওয়া পাকিস্তান একই সঙ্গে শোষক ও শোষিতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। জন্ম থেকে শুরু করে গত ৭৫ বছরের মধ্যে ৩৪ বছরই দেশটিতে শাসন-শোষণ চালিয়েছেন সেনাবাহিনীর নেতৃস্থানীয়রা। ১৯৫৮ সাল থেকে শুরু করে দফায় দফায় এই প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল ২০০৮ সাল পর্যন্ত। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান (১৯৫৮-৬৯), জেনারেল ইয়াহিয়া খান (১৯৬৯-৭১), জেনারেল মুহাম্মদ জিয়াউল হক (১৯৭৭-৮৮) এবং জেনারেল পারভেজ মোশাররফ দুর্বার গতিতে পাকিস্তানে সেনাশাসন চালিয়ে গিয়েছেন।পাকিস্তানের সেনাশাসনের প্রক্রিয়াটি ‘নিজের পায়ে কুড়াল মারা’র মতো করে ত্বরান্বিত করেন দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা।  ১৯৫৮ সালে তিনি সেনাবাহিনীর সমর্থনে সংবিধান বাতিল করেন এবং ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে নিযুক্ত করেন। এর পরেই আইয়ুব নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ইস্কান্দার মির্জাকে নির্বাসিত করেন তিনি। আইয়ুব প্রশাসনকে পুনর্গঠন করেন এবং কৃষি সংস্কার এবং শিল্পের উদ্দীপনার মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করেন। তার সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করা হয়েছিল। পাকিস্তানের শাসনে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির প্রথম প্রচেষ্টার মাধ্যমে ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খানের ক্ষমতার ইতি ঘটে। এদিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তারই উত্তরসূরি জেনারেল ইয়াহিয়া খান। দেশব্যাপী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতায় বসেন। সেই নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী বাঙালি জাতি-জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে ১৬০টি আসন জিতেছে এবং তারপরে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৮১টি আসন নিয়ে বহু ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে ইয়াহিয়ার অস্বীকৃতি দেশটির পূর্বাঞ্চলে নাগরিক বিদ্রোহের সূত্রপাত করে। তারই ফলে সৃষ্টি হয় নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের ঘটনায় পিপিপি নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন ইয়াহিয়া খান।১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ভুট্টোর ক্ষমতাসীন পিপিপি ব্যাপক বিজয় দাবি করলেও তখন বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ দেশটিকে অশান্তিতে ফেলে দেয়। আর তারই সুযোগ নিয়ে ৮ বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা জেনারেল মুহাম্মদ জিয়াউল হক ‘ঝোপ বুঝে কোপ’ মারেন-জারি করলেন সামরিক শাসন। দেশে এলো তৃতীয় সামরিক শাসক।

জিয়াউল হক নিজেকে সেনাপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত করেন এবং ১৯৭৩ সালের সংবিধানে পরিবর্তন এনে নিজে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষণা করেন।ভুট্টোকে এক হত্যাকাণ্ড মামলায় ফাঁসিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন সামরিক সদস্য নিয়ে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।পরবর্তী ১১ বছর চারটি স্বল্পকালীন নির্বাচিত সরকার দেশটিকে শাসনের সুযোগ পেয়েছে। বিকল্পভাবে প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো (১৯৮৮-৯০ এবং ১৯৯৩-৯৬) এবং নওয়াজ শরিফের (১৯৯০-৯৩ এবং ১৯৯৭-৯৯) নেতৃত্বে গঠিত দুটি সরকারকেই বরখাস্ত করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট। এক্ষেত্রে ১৯৮৫ সালে জিয়া শাসনের সংবিধানে ঢোকানো একটি ধারাই অনুসৃত হয়েছে, যা সামরিক শক্তির প্রতিনিধির গোপন কার্যকলাপের ইঙ্গিত দেয়।বিষয়টি বুঝতে পেরে নওয়াজ শরিফ তার দ্বিতীয় মেয়াদে ওই ধারাটি ত্রয়োদশ সংশোধনী হিসাবে সংবিধান থেকে বাতিল করেন। কিন্তু এই পদক্ষেপও বেসামরিক সরকারকে নির্বিচারে বরখাস্ত থেকে সুরক্ষা দিতে পারেনি। যা প্রমাণিত হয় জেনারেল পারভেজ মোশাররফের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।

২০০১ সালের ২০ জুন সেনা শাসক পারভেজ মোশাররফ স্বঘোষিত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট স্বনিযুক্ত হন। ২০০৭ সালে তিনি একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন-সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বরখাস্ত করা, ইসলামপন্থি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে একটি সেনা অভিযান পরিচালনা করা, সেনাপ্রধানের পদে থাকাকালীন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ইত্যাদি। নভেম্বর ২০০৭ সালে, তিনি সামরিক প্রধানের পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন এবং তিনি কার্যকরভাবে ক্ষমতা হারান।    

এদিকে ইমরানের এমন দুর্দিনে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে রাশিয়া। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  বলেছে, ‘অবাধ্য’ ইমরান খানকে শাস্তি দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।  রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, রাশিয়া জানতে পেরেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ৩ এপ্রিল সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি ইমরান খানের রাশিয়া সফরের ঘোষণা আসার পরই তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা একজোট হয়ে বাজেভাবে ইমরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করে।  এ সফর বাতিলের জন্য আলটিমেটাম দেয়। কোনো কিছুতে ইমরান খানকে থামানো যায়নি বলে ওয়াশিংটন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকেও নাকি সফর বাতিল করার জন্য চাপ দিয়েছিল এমন দাবিই করেছে মস্কো।ইমরান খানকে সরিয়ে দিলেই কেবল পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা সম্ভব যুক্তরাষ্ট্র এমন হুমকি দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে। রাশিয়ার দাবি, এসব ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে অবাধ্য ইমরান খানকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে।  মারিয়া বলেন, ‘নিজের স্বার্থ হাসিলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর আরেকটা নির্লজ্জ চেষ্টা। ওপরের সব ঘটনা সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে।’ইমরান খানও অনাস্থা ভোটকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, তার রাশিয়া সফরকে ভালোভাবে নিতে পারেনি পশ্চিমা বিশ্ব।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.