ছবি:সংগৃহীত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী, ২৪ বছর বয়সী মোছা: সিফাত আরা রুমকি। ভর্তি হওয়ার পর থেকেই খেলাধুলায় সক্রিয়। নারী ক্রিকেট দলে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়নশিপে পরপর দুইবার ব্রোঞ্জ জিতেছেন। ২০২২ সালে ভিসিকাপে হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। দাবায় একাধিকবার ক্যাম্পাসের সেরা মহিলা দাবাড়ু হয়েছেন। ব্যাডমিন্টনে সেন্ট্রাল টিমের হয়ে পরপর দুইবার আন্তঃবিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এবং সেন্ট্রাল বাস্কেটবল টিমেও খেলছেন। বহুমুখী প্রতিভা ও পরিশ্রমী এই খেলোয়াড় বর্তমানে জাকসু সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচিত হলে নারী শিক্ষার্থীদের খেলায় উৎসাহিত করা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনিরুল ইসলাম।
প্রশ্ন: শুরুতে জানতে চাই, খেলাধুলার প্রতি আপনার আগ্রহ কীভাবে শুরু হয়েছিল?
রুমকি: ছোট থেকেই আমি খেলাধুলায় মোটামুটি মেতে থাকতাম। কিন্তু আগে কোনো প্ল্যাটফর্ম ছিল না। ইউনিভার্সিটিতে এসে ‘নারী ক্রিকেটার আহ্বান’ পোস্টার দেখার পরই খেলার প্রতি আমার আগ্রহ শুরু হয়। এখনও তা অব্যাহত।
প্রশ্ন: একসাথে এতগুলো খেলায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা কেমন?
রুমকি: আমি সব ধরনের খেলাধুলা শিখতে আগ্রহী। প্রতিটি খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে ভালো লাগে। ভালো কিছু করার চেষ্টা আনন্দ দেয়। খেলার সুবিধা-অসুবিধা কাছ থেকে দেখেছি। সমস্যাগুলো সমাধান করতে চাই। খেলার মান উন্নত করতে আগ্রহী।
প্রশ্ন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া-অঙ্গনে আপনার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত কোনটি?
রুমকি: আমার জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল ২০২২ সালের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটে প্রথম ব্রোঞ্জ পদক অর্জন। টিমমেটদের সঙ্গে আর ULAB-এর পুরস্কার বিতরণীর আনন্দ আজও চোখে ভাসে।
প্রশ্ন: জাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় ফ্যামিলি ও বন্ধুদের সমর্থন কেমন পাচ্ছেন?
রুমকি: আমার বন্ধু-বান্ধবরা খুব সাপোর্টিভ। খবর শুনে তারা খুশি হয়েছে। আমাকে আরও উৎসাহ দিয়েছে। প্রথমবার বাসায় বাবাকে বললাম। তিনি অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিলেন। আমাকে জানালেন কী করা ভালো হবে। প্রথমে বলতে ভয় লাগছিল। কিন্তু তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অসাধারণ। বন্ধু-বান্ধবরা নিয়মিত সাহস দিচ্ছে। অনুপ্রেরণাও দিচ্ছে।
প্রশ্ন : জাকসু নির্বাচনে সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে দাঁড়ানোর মূল কারণ কী?
রুমকি: দীর্ঘদিন ধরে আমি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব খেলার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। খেলার সময়, প্রশিক্ষণে বা বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি। অন্যদেরও তা কাছ থেকে দেখেছি। তাই আমার মনে হয়, এসব সমস্যার সমাধান করা জরুরি। এতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াক্ষেত্র আরও উন্নত হবে। উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারবে। শিক্ষার্থীদের ও অ্যাথলেটদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা আমার অনুপ্রেরণা। তাদের হয়ে কথা বলা এবং আওয়াজ তোলা আমার বড় লক্ষ্য।
প্রশ্ন: জয়ী হলে প্রথম কাজ হিসেবে আপনি কী করতে চান?
রুমকি: ইনশাআল্লাহ, জয়ী হলে সবার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করব। এরপর ধাপে ধাপে সেগুলোর সমাধান শুরু হবে। মাঠ উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং মাঠকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি হবে প্রাথমিক ধাপ। আর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলার মান উন্নয়ন।
প্রশ্ন: নারী খেলোয়াড়দের সুযোগ ও অংশগ্রহণ বাড়াতে আপনার পরিকল্পনা কী?
রুমকি: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী খেলোয়াড়রা নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হন। ডিপার্টমেন্ট বা হলভিত্তিক ছেলেদের যে পরিমাণ টুর্নামেন্ট চলে। মেয়েদের তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য। অথচ মেয়েদের টুর্নামেন্ট চালু করলে প্রচুর সাড়া পাওয়া যাবে। অনেক মেয়েরা খেলতে আগ্রহী। কিন্তু সুযোগ না পাওয়ায় তারা কনফিডেন্সও পাচ্ছে না। আমার কাজ হবে মেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ানো। মেয়েদের টুর্নামেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। এবং খেলাধুলা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে ওয়ার্কশপ আয়োজন করা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন মেয়ে খেলোয়াড়দের জন্য খেলার মাঠ প্রায় তৈরি। তাই দ্রুততম সময়ে সেটি উদ্বোধন করে মেয়েদের জন্য উন্মুক্ত করা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমার লক্ষ্য। পাশাপাশি আমাদের জিমনেসিয়ামে মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম অত্যন্ত কম। সেগুলোও বৃদ্ধি করা হবে।
প্রশ্ন: বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ও ক্রীড়া-অবকাঠামো উন্নয়নে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন?
রুমকি: মাঠ উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো মাঠকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা। প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু মাঠকর্মী বা মাঠ সহকারীর সংখ্যা খুবই কম। হাতে গোনা মাত্র ৫-৬ জন। তাই মাঠের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের সংখ্যা অবশ্যই বাড়াতে হবে। আমার লক্ষ্য হবে প্রশাসনের প্রতি চাপ প্রয়োগ করে মাঠকর্মী ও সহকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে, আমাদের বাজেট অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক কম। কোথাও খেলতে গেলে বা প্রাকটিসের সময় প্রপার সরঞ্জাম নেই। এবং খেলোয়াড়রা মাত্রাতিরিক্ত নামমাত্র টিএডিএ পান। তাই বাজেট বৃদ্ধির জন্যও প্রশাসনের প্রতি চাপ প্রয়োগ করা হবে।
প্রশ্ন: আপনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য কী—একজন খেলোয়াড় হিসেবে নাকি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে এগিয়ে যাওয়া?
রুমকি: আমি মূলত এই দুই বিষয় নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। একজন খেলোয়াড় মাঠের কোথায় কোন সমস্যা আছে তা ভালোভাবে বুঝতে পারেন। এবং আমি বিশ্বাস করি একজন খেলোয়াড় তার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে একজন ভালো সংগঠকও হতে পারবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2025 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh