ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিকে হত্যার ভয়াবহ পরিকল্পনা ও চক্রান্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যৌথ নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট চলাকালে আর্জেন্টাইন তারকা মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র হামলার ছক কষেছিল দুষ্কৃতকারীরা। কেবল মেসিই নন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপে এবং রেফারিদের ওপরও এসেছিল একাধিক হুমকি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইনফর্মাসিওন ডট ইএস’-এর বরাতে এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘মিরর’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টার (আইপিসিসি) ও এফবিআই-এর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
নিরাপত্তা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি এবং গুরুতর হুমকির নিশানায় ছিলেন লিওনেল মেসি। গত ৭ জুলাই আর্জেন্টিনা ও মিসর ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক ব্যক্তি পোস্ট করে লেখেন, “আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকব এবং শরীরে বাঁধা চারটি বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেব।”
সবচেয়ে বিপজ্জনক ঘটনাটি ঘটে যখন ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে সরাসরি পুলিশকে জানায়, সে তার দুই সঙ্গীকে নিয়ে ঘরে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ (AR-15) অটোমেটিক রাইফেলসহ স্টেডিয়ামের দিকে এগোচ্ছে। তাদের লক্ষ্য দুই দলের খেলোয়াড় ও নিরাপত্তাকর্মীরা হলেও সে বিশেষভাবে মেসির নাম উল্লেখ করে। এছাড়া আটলান্টা স্টেডিয়ামের ময়লার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রাখার মিথ্যা খবর দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হলে বোমা বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত স্কোয়াড পুরো স্টেডিয়ামে চিরুনি তল্লাশি চালায়।
পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও বেশ কয়েকবার নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী জানান, রোনালদো যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেই হোটেলের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। দুই দিন পর হিউস্টন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে সেই হোটেল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে টরন্টোতে অপর এক ব্যক্তি রোনালদোর সাথে লিফটে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কেবল সেলফি তোলার জন্য লিফটে ঢুকেছিল বলে জানায়। মিয়ামিতেও তার কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা এবং পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে মাঠে দর্শক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে।
খেলোয়াড়দের পাশাপাশি রেফারিরাও ছিলেন হুমকির মুখে। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেজিয়ে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারেরও বেশি হুমকি পান। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নেয় যে ফ্রান্সে অবস্থানরত তার পরিবারকে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপেকে লক্ষ্য করে চালানো হয় তীব্র সাইবার আক্রমণ ও বর্ণবাদী আচরণ। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সাথে বাগবিতণ্ডার জেরে অনলাইনে তাঁকে জাতিবিদ্বেষী গালিগালাজ করা হয়। এমনকি ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে এমবাপের ছবি সংবলিত পুতুল পোড়ানোর ঘটনাও ঘটে।
সূত্র- মিরর
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
