× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

এআই আমাদের মেরে ফেলবে, এই শঙ্কায় গুগলের দুই গবেষকের পদত্যাগ

ডেস্ক রিপোর্ট।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও। সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে গুগল ডিপমাইন্ডের দুই গবেষকের পদত্যাগ।

তাদের একজন বিলাল চুঘতাই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, এআই যেভাবে দ্রুত এগোচ্ছে, তা নিয়ে তিনি এতটাই উদ্বিগ্ন যে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

গুগল ডিপমাইন্ডে এজিআই (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স) সেফটি ও অ্যালিগমেন্ট নিয়ে কাজ করতেন বিলাল চুঘতাই। তার কাজের মধ্যে ছিল অত্যাধুনিক এআই সিস্টেমকে মানুষের উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এবং সেগুলো যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করার উপায় খোঁজা।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তিনি ডিপমাইন্ড ছেড়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে এআইয়ের বর্তমান অগ্রগতির গতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথাও জানান।

যে কারণে চাকরি ছাড়লেন বিলাল

চুঘতাইয়ের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির অভূতপূর্ব গতি। তার মতে, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা একসময় কল্পনা করাও কঠিন ছিল। কিন্তু সেই তুলনায় এআই সেফটি ও অ্যালিগমেন্ট গবেষণা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, সেটিই তার বড় প্রশ্ন।

তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে অত্যন্ত উন্নত বা ‘সুপার ইন্টেলিজেন্ট’ এআই তৈরি হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা মানুষের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এটি চুঘতাইয়ের ব্যক্তিগত সতর্কতা ও আশঙ্কা; একে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ডিপমাইন্ড ছাড়লেন আরও এক গবেষক

বিলাল চুঘতাই একা নন। এর আগে গুগল ডিপমাইন্ডের এজিআই সেফটি টিমের গবেষক জোস অ্যাঞ্জেলসও প্রতিষ্ঠান ছাড়ার কথা প্রকাশ্যে জানান। ১৩ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আনেন তিনি।

অ্যাঞ্জেলসের উদ্বেগও মূলত একই জায়গায়—এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গবেষণা যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে কি না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিপমাইন্ড ছাড়ার পর অন্য একটি এআই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে এআই মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান মিটারে যোগ দেন তিনি।

ফলে এআই নিয়ে উদ্বেগ শুধু বাইরের সমালোচকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি কাজ করা গবেষকদের একটি অংশও প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ নিয়ে প্রকাশ্যে সতর্ক করছেন।

এআই কি সত্যিই মানবজাতির জন্য হুমকি?

এই প্রশ্নের এখনই নিশ্চিত কোনো উত্তর নেই। এআই নিরাপত্তা গবেষকদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্বায়ত্তশাসিত এআই সিস্টেম তৈরি হলে সেগুলোর ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে এমন সিস্টেম নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, যেগুলো নিজে সিদ্ধান্ত নিতে, জটিল কাজ সম্পন্ন করতে কিংবা নতুন প্রযুক্তি ও সিস্টেম তৈরিতে সহায়তা করতে সক্ষম হবে।

তবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্যও নেই। এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার সময় বর্তমানে দৃশ্যমান বিপদ—যেমন সাইবার হামলা, ভুল তথ্য ছড়ানো, প্রতারণা, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও চাকরির ওপর প্রভাব—এবং মানবসভ্যতার বিলুপ্তির মতো দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কাকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে এআই এজেন্টের স্বায়ত্তশাসন ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন ঘটনাও এই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এআই এজেন্ট ‘শর্মা’র মাধ্যমে ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ এবং পরীক্ষামূলক পরিবেশের নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা নিয়ে শিল্পমহলের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।

এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোডি। তার বক্তব্য, এআই মডেলের সক্ষমতা যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও যেন একই গতিতে এগোয়।

আমোডির প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে স্বাধীনভাবে এআই নিরাপত্তা মূল্যায়ন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও কার্যকর নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরির উদ্যোগ। তিনি উন্নত এআই গবেষণা পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলেননি; বরং নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য উন্নয়নের গতি কিছুটা ‘পেস’ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তার এই অবস্থানের সঙ্গে প্রকাশ্যে একমত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক। অল্টম্যানও এআইয়ের সীমান্তবর্তী বা অত্যাধুনিক মডেলগুলোর উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে আমোডির বক্তব্যের মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এআইয়ের অগ্রযাত্রা কি থেমে যাবে?

বাস্তবে এআই উন্নয়নের গতি কমানো এতটা সরল নয়। প্রযুক্তি, ব্যবসা, গবেষণা এবং জাতীয় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এআই এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। ফলে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিলেও অন্য প্রতিষ্ঠান বা দেশ একই গতিতে এগিয়ে গেলে প্রতিযোগিতার চাপ থেকেই যেতে পারে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে। পাশাপাশি এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে বড় বাণিজ্যিক স্বার্থ। তাই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন এআই শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, এনবিসি নিউজ

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.